• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সেলিম আহমেদ দুই দিন নিখোঁজের পর মেঘনায় উদ্ধার শিশু, পরিবারের কাছে হস্তান্তর বরুড়ায় জরুরি মেডিকেল টিম মাঠে নামল বন্যা প্রতিরোধে রেসকিউ ও চিকিৎসাসেবা ত্বরান্বিত ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত নারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ পরিবারকে ২৫ লাখ টাকার চেক প্রদান সিংড়ায় প্রাথমিক বৃত্তিতে নজর কাড়ল আয়েশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কুমিল্লার লাবিবের এআইয়ে এশিয়া জয়, স্বপ্ন এখন বিশ্বজয়ের কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক শার্শায় ছাত্রদল নেতা চয়নের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র

কুমিল্লার লাবিবের এআইয়ে এশিয়া জয়, স্বপ্ন এখন বিশ্বজয়ের

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

বিন্দু বাংলা প্রতিবেদক:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন বিশ্ব প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত ক্ষেত্র। সেই প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন কুমিল্লার হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব শাহরিয়ার। এশিয়া-প্যাসিফিক অলিম্পিয়াড ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (APOAI) ২০২৬-এ ১৮টি দেশের ১২৯ জন প্রতিযোগীর মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের মধ্যে হয়েছেন প্রথম।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে একটি ল্যাপটপ গ্রহণ করেন লাবিব। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির এই মুহূর্তটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়; এটি হোমনা, তিতাস এবং পুরো কুমিল্লা অঞ্চলের জন্যও গর্বের এক অনন্য অধ্যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাবিব শাহরিয়ার কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা প্রকৌশলী রিয়াজুল হক এবং মা শাহনাজ বেগম, যিনি খাদিজা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই গণিত, প্রোগ্রামিং ও প্রযুক্তির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহই তাঁকে ধাপে ধাপে নিয়ে যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

এআই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের আগে লাবিব বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করেন। আঞ্চলিক বাছাই, জাতীয় পর্ব এবং জাতীয় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি বাংলাদেশ দলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (IIT) থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনলাইনে অনুষ্ঠিত ছয় ঘণ্টাব্যাপী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় মেশিন লার্নিংভিত্তিক চারটি জটিল সমস্যা সমাধান করে তিনি এশিয়ার সেরা প্রতিযোগীদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

প্রতিযোগিতার ফলাফলে দেখা যায়, ১৮টি দেশের অংশগ্রহণকারী ১২৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ জন স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এর মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি। লাবিব শাহরিয়ার চতুর্থ, মো. শহিদোজ্জামান আরাফ পঞ্চম এবং ত্রিদিব রায় অর্জ নবম স্থান লাভ করেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবের মতো প্রযুক্তিতে অগ্রসর দেশও ছিল।

শিক্ষকেরা জানান, শ্রেণিকক্ষে শান্ত, মনোযোগী ও অনুসন্ধিৎসু শিক্ষার্থী হিসেবে লাবিবের পরিচিতি ছিল আগে থেকেই। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত প্রোগ্রামিং, গণিত, ডেটা বিশ্লেষণ এবং মেশিন লার্নিং নিয়ে পড়াশোনা করতেন। আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় সফল হতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন ছিল তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস।

হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, “লাবিবের এই অর্জন শুধু একটি পদক নয়। এটি প্রমাণ করেছে, মফস্বলের একজন শিক্ষার্থীও বিশ্বমানের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় সেরাদের সঙ্গে সমানতালে লড়তে পারে।”

স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, লাবিবের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তি শিক্ষায় আরও বেশি আগ্রহী করবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সায়েন্স ও প্রোগ্রামিংয়ের মতো বিষয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন করে উৎসাহ পাবে।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (BdOSN) জানায়, বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক এআই গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। লাবিবের মতো তরুণদের সাফল্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি মানচিত্রে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, আগামী দিনের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিল্প ও প্রশাসনের বড় অংশ পরিচালিত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে। সেই বাস্তবতায় লাবিব শাহরিয়ারের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিযোগিতায় পদক জয় করছেন না; তাঁরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ারও ভিত্তি তৈরি করছেন।

হোমনার মানুষ এখন গর্ব করে বলছেন—একজন কিশোরের সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, স্বপ্ন দেখার জন্য রাজধানীতে জন্ম নেওয়া প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং সঠিক দিকনির্দেশনা। লাবিব শাহরিয়ারের অর্জন সেই সত্যকেই নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এখন দেশের প্রযুক্তিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, এশিয়ার মঞ্চে স্বর্ণপদকজয়ী এই মেধাবী শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড ও বৈশ্বিক গবেষণায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবেন। আর তাঁর এই পথচলা দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য হয়ে থাকবে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার নাম।

 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন