মোঃআনজার শাহ
১১ জুলাই তীব্র বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে একাধিক মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের নির্দেশক্রমে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে গত ১১ জুলাই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়া।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বর্ষায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি যে কোন সময় আরও অবনতি হতে পারে সেই আশঙ্কায় আগেভাগেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে টিম গঠন করা হয়েছে। গঠিত কেন্দ্রিয় টিমের সমন্বয়ক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন ডাঃ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)। তাঁর সঙ্গে আছেন ডাঃ মুজাহিদুল ইসলাম, ডাঃ প্রণয় দত্ত দীপ্ত, ডাঃ এম. আসিফ আল-হাদি ও ডাঃ শামীমা আক্তারসহ অন্যান্য চিকিৎসক। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ), স্বাস্থ্য পরিদর্শক (এএইচআই), স্বাস্থ্য সহকারী কর্মকর্তা (এসএসএমও) এবং একজন অ্যাম্বুলেন্স চালকও টিমে রয়েছেন।
উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ভিন্ন উপ-টিমও গঠন করে রাখা হয়েছে যাতে দুর্গত জনগণ দ্রুত চিকিৎসাসেবা পেতে পারে। আগানগর, ভবানীপুর, খোশবাস, দেওড়া, শীলমুড়ী, গালিমপুর, শাকপুর, আচ্ছা ও পয়ালগাছাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আলাদা দলনেতার অধীনে এসব টিম কাজ করবে। প্রতিটি টিমে চিকিৎসক বা সহকারী সার্জনের নেতৃত্বে সিনিয়র স্টাফ নার্স, এসএসএমও, এইচএ ও এএইচআই সমন্বয়ে ৩–৬ জন সদস্য রাখা হয়েছে। মোট মিলিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে ষোড়শ’রও বেশি এলাকাভিত্তিক টিম কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্যোগকালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। সেজন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন নম্বর (০১৭৩০-৩২৪৪৫৭) চালু রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজন হলে যে কেউ দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ের দলনেতা ও সদস্যদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও নির্দিষ্ট করা হয়েছে যাতে স্থানীয়ভাবে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়া যায়।
বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেছেন, “বর্ষার সময় বন্যা ও দুর্যোগ যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নেবার সম্ভাবনা থাকে। আমরা আগেভাগেই প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য পৃথক মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছি, যাতে মানুষ কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নিজরাও ঝুঁকিমুক্ত থেকে সেবা দিতে পারেন।”
স্থানীয়রা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁরা জানিয়েছেন যে কেবল টিম গঠন করলেই হবে না প্রয়োজন পর্যাপ্ত ওষুধ, বিশুদ্ধ পানিসম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের নিশ্চয়তা। উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন যে বন্যা পরিস্থিতিতে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই বাস্তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এলাকাবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে অনুরোধ করেছেন। বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পেতে নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পাশাপাশি গুজব এড়িয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।