• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযানে ডাকাতি মামলার দুই আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪ প্রস্তুতি নেই পাউবোর, সরিষাবাড়ীতে ভয়াবহ নদীভাঙন আতঙ্ক কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সেলিম আহমেদ দুই দিন নিখোঁজের পর মেঘনায় উদ্ধার শিশু, পরিবারের কাছে হস্তান্তর বরুড়ায় জরুরি মেডিকেল টিম মাঠে নামল বন্যা প্রতিরোধে রেসকিউ ও চিকিৎসাসেবা ত্বরান্বিত ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত নারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ পরিবারকে ২৫ লাখ টাকার চেক প্রদান সিংড়ায় প্রাথমিক বৃত্তিতে নজর কাড়ল আয়েশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রস্তুতি নেই পাউবোর, সরিষাবাড়ীতে ভয়াবহ নদীভাঙন আতঙ্ক

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় যমুনা, ঝিনাই ও সুবর্ণখালী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে যমুনার তীব্র স্রোতে পিংনা ইউনিয়নের অন্তত তিন থেকে চারটি গ্রামে নতুন করে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের মুখে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা থাকায় কয়েক হাজার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও কার্যকর প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পৌরসভাসহ সাতপোয়া, পোগলদিঘা, কামরাবাদ, পিংনা ও ভাটারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে যমুনার অব্যাহত ভাঙনে নলসন্ধ্যা, ডাকাতিয়া, মেন্দা, কাঠালতলা ও মিরকুঠিয়া গ্রামের কয়েকশ একর আবাদি জমি, বহু বসতভিটা এবং অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাঙনের মুখে রয়েছে অন্তত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছয় থেকে সাতটি মাদ্রাসা, কয়েকটি মসজিদ এবং একটি ঈদগাহ মাঠ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হয়ে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে অন্যত্র বসতি গড়তে বাধ্য হয়েছে। তবু পৈতৃক ভিটার টানে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার পরিবার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে। প্রতিবছর নতুন করে ঘর নির্মাণ করলেও শেষ পর্যন্ত নদীর ভাঙনের কাছে তাদের হার মানতে হচ্ছে।

নলসন্ধ্যা গ্রামের ৬০ বছর বয়সী ছালেহা বেগম বলেন, “নদী আমাদের সবকিছু নিয়ে যাচ্ছে। জমি-ঘর হারিয়ে কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।”

বৃদ্ধ করিম মণ্ডল, ছাত্তার ও মোকাদ্দেসসহ আরও অনেক বাসিন্দা বলেন, চোখের সামনে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখেও তাঁরা অসহায়। স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা না হলে পুরো জনপদই একসময় যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, “বর্তমানে যে মাত্রায় নদীভাঙন হচ্ছে, তা মোকাবিলার মতো সক্ষমতা এই মুহূর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর জিও ব্যাগ বা অস্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই নতুন করে ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, যমুনার ভয়াল ভাঙন থেকে সরিষাবাড়ীর বিস্তীর্ণ জনপদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরকার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় নদীভাঙনে জনপদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমির পাশাপাশি হাজারো মানুষের বসতভিটাও চিরতরে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন