জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সুপারিশ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মরত অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবও চূড়ান্ত করছে সংস্থাটি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে তা সরকারের কাছে পাঠানো হতে পারে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে হলে প্রার্থীকে একক বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অর্থাৎ দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
বর্তমানে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকেরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান না থাকায় অতীতে দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অযোগ্য ঘোষণারও সুপারিশ করতে যাচ্ছে। এ জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। সংশোধনী কার্যকর হলে দেশের প্রায় সাত লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরিতে বহাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কমিশন সভায় সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করা হবে। এরপর দ্রুত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় সরকারের সব স্তরে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হতে না দেওয়ার বিধান থাকা উচিত। একইভাবে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হবে।
ইসির প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে—স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সংসদ নির্বাচনের মতো সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েনের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে দেওয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার বা পরিচালকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি আরও কঠোর করা।
অন্যদিকে, নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন ও আদালতের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কে নির্বাচন করবেন আর কে করবেন না, সেটি আইন ও নির্বাচন কমিশনের বিষয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলির মতে, নির্বাচন কমিশনের সুপারিশগুলো সরকার পর্যালোচনা করবে। যুক্তিসংগত মনে হলে সরকার আইন সংশোধনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করবে, অন্যথায় প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন বা বাদ দেওয়া হতে পারে।
সূত্র : দৈনিক আজকের পত্রিকা।