জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ব্রাজিলসহ ৬০টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর কড়া সমালোচনা করে ব্রাজিল সরকার এ পদক্ষেপকে ‘খামখেয়ালি’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে ব্রাজিল সরকার বলেছে, নিজেদের সুরক্ষাবাদী বাণিজ্যনীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ও শ্রমিকদের অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিলের রপ্তানি পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
ব্রাজিল সরকার জানিয়েছে, তারা অবিলম্বে দেশের ‘পারস্পরিকতা আইন’ (Reciprocity Law) অনুযায়ী পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করবে। একই সঙ্গে বিষয়টি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় উত্থাপন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ আইন কার্যকর করতে যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্রাজিলসহ কয়েক ডজন দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের কয়েকটি পণ্যের ওপর পৃথকভাবে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল, ব্রাজিল অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমে জড়িত।
এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে আলোচনা সফল না হলে ব্রাজিল নিজেদের পণ্যের জন্য বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে নেবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স