কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের উপস্থিতিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও ইসলাহী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুবি শাখার আয়োজনে কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ আসর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় মুফতি ফয়জুল করীমকে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না পেরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একসঙ্গে আসরের নামাজ আদায় করেন।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত ইসলাহী ইজতেমায় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শুরুতে ঈমান ও আমলের ফজিলত এবং শরিয়ত বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় তিনি ইসলামের মৌলিক বিধান পালনের গুরুত্ব তুলে ধরে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শরিয়াহর বিধান অনুসরণের বিকল্প নেই। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নামাজ মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সুদৃঢ় করে।
একই সঙ্গে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, চরিত্র ও সুন্নাহ অনুসরণ করে জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এছাড়া ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত রোজা, হজ ও জাকাতের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি এসব বিধান যথাযথভাবে পালনের প্রতি মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আব্দুল কাইয়ুমসহ দেশের সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, মুফতি ফয়জুল করীমের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চাইলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের আবেদন নাকচ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অনুমতি না থাকলেও ফয়জুল করীমের উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠান আয়োজনের পূর্বঘোষণা দিয়েছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।