গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান খন্দকারের বিরুদ্ধে চাকরির নামে জামানত গ্রহণ, বকেয়া বেতন পরিশোধ না করা, টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাদুল্লাপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন দুই সাবেক কর্মী।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মোছা. দিলফেরোজ (৪২) জানান, ২৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে সংস্থার ফিল্ড ট্রেইনার পদে নিয়োগের সময় তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা জামানত নেওয়া হয় এবং মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে তার ৬২ হাজার টাকা বকেয়া বেতন ও জামানতের টাকা ফেরত চাইলে তা না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করা হয়। সর্বশেষ টাকা চাইতে গেলে তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপর অভিযোগকারী মোছা. আনজুমান আরা বেগম দাবি করেন, একই তারিখে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জামানত নেওয়া হয় এবং মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ১০ মাসের ৫০ হাজার টাকা বকেয়া বেতন এবং জামানতের টাকা ফেরত চাইলে তাকেও অপমান, হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত নিয়োগপত্রে দেখা যায়, উভয় কর্মীকে ১ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে ফিল্ড ট্রেইনার পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং মাসিক ৫ হাজার টাকা সম্মানীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীরা বিষয়টিকে প্রতারণা ও আত্মসাতের শামিল উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো প্রমাণিত হলে ঘটনার প্রকৃতি ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিম্নোক্ত আইনি বিধান প্রযোজ্য হতে পারে—
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪০৬ — বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাৎ (Criminal Breach of Trust)।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪২০ — প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ বা সম্পদ গ্রহণ (Cheating)।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫০৬ — অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি (Criminal Intimidation)।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত)-এর বেতন পরিশোধ-সংক্রান্ত বিধান — কর্মীর প্রাপ্য মজুরি বা বেতন নির্ধারিত নিয়মে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।