• শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় জামায়াত নেতাদের অভিযোগের জবাব দিলেন আমীর এআইয়ের সুফল পেতে দায়িত্বশীল ব্যবহার জরুরি: তথ্যমন্ত্রী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: রিজভী জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে বঙ্গোপসাগরে ডুবে মরতে হবে: হাসনাত সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আইনমন্ত্রী নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: প্রধানমন্ত্রী শাহাবুদ্দিনকে ঘিরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত বিতর্ক কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  মেঘনার সন্তান ডা. শাহনেওয়াজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু ‘বাংলাদেশ মানববন্ধু সংগঠন’

মেঘনায় জামায়াত নেতাদের অভিযোগের জবাব দিলেন আমীর

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

মেঘনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতাকে ঘিরে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগ নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে বহিরাগত নেতৃত্ব, বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয় তুলে ধরা হলেও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন মেঘনা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর লোকমান হোসেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা চাই আমাদের গঠনমূলক সমালোচনা হোক। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা কাম্য নয়।”
বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিযোগ প্রসঙ্গে লোকমান হোসেন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রে সুদভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি দলের শরিয়াহ বোর্ডে উত্থাপিত হওয়ার পর শরিয়াহভিত্তিক বীমা প্রতিষ্ঠানেও চাকরি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর মেঘনা উপজেলায় যারা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, তারা সবাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে দলীয় আদর্শ অনুসারে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, “আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি বর্তমানে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি এখন কোনো বীমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।”

নিজেকে বহিরাগত উল্লেখ করার অভিযোগের জবাবে লোকমান হোসেন বলেন, তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে মেঘনা উপজেলা জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় কুমিল্লা জেলা ও মেঘনা উপজেলা জামায়াত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। সাংগঠনিক প্রয়োজনেই আমি দীর্ঘদিন ধরে মেঘনায় কাজ করছি।”

তিনি আরও জানান, মেঘনার সেননগর এলাকায় ডা. ইসমাইল হোসেন প্রতিষ্ঠিত একটি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি ওই বিদ্যালয়ের পরিচালকদের একজন। ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন পরিচালক যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অভিযোগও নাকচ করে উপজেলা আমীর বলেন, সর্বশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি আমীর এবং আনিছুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের মধ্যে কোনো সাংগঠনিক বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষায়, “কিছু ব্যক্তি নির্বাচন বা বিভিন্ন সময়ে দলকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত অসন্তোষ থাকতে পারে। কিন্তু সেটিকে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যারা নতুন, তারা হয়তো এখনো জামায়াতের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। দল সময়মতো যোগ্যতার ভিত্তিতে সবার মূল্যায়ন করে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে লোকমান হোসেন বলেন, তিনি ও তার পরিবার মেঘনার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সবশেষে তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, “কোনো ধরনের গুজবে কান দেবেন না। আমরা গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের মানহানি করার অপচেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা এসব অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানাই।”


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন