১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি ৫ আগস্ট; মৃত্যুর মিছিল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হলো
প্রতিবেদক-মোহাম্মদ ইসমাইল
দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন ও অসংখ্য নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে পাঁচলাইশ থানার ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহিন বলেছেন, এই দীর্ঘ লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি এসেছে ৫ আগস্ট। তার ভাষায়, আন্দোলনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল সংগ্রাম, আর শেষ পর্যন্ত সত্য ও জনগণের আকাঙ্ক্ষারই বিজয় হয়েছে।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এই আন্দোলনের কারণে আমার পরিবারের প্রতিটি সদস্য কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি—সবকিছু সহ্য করেও আমরা রাজপথ ছাড়িনি। কারণ আমাদের বিশ্বাস ছিল, একদিন না একদিন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবেই।”
মো. শাহিন আরও বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম সাইফ, যিনি অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নিয়ে একটি পা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাইফ ভাইয়ের মতো শুধু একজন নন, সারা বাংলাদেশে হাজারো নেতা-কর্মী রয়েছেন, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে জীবনের মূল্যবান সময়, কর্মজীবন, এমনকি শারীরিক সক্ষমতাও হারিয়েছেন। কেউ কারাগারে ছিলেন, কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ প্রাণ দিয়েছেন গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকারের দাবিতে।”
তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধারাবাহিকভাবে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেছে। বিভিন্ন সময়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি, গণসমাবেশ, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছাত্র-জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন।
মো. শাহিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিজয়ের আগের দিনগুলো ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। চারদিকে আতঙ্ক, গুলি, গ্রেপ্তার, গুম ও দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। অনেক পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে, অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। তবুও ছাত্র-জনতা এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরা পিছিয়ে যাননি। বরং আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করে।
তিনি বলেন, “হাজারো শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৫ আগস্ট আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছি। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আমাদের স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। এই আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।”
শেষে তিনি আন্দোলনে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং যারা দীর্ঘদিন নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাদের প্রতি সম্মান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।