★ “আমরা কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা জোরপূর্বক পরিচ্ছন্ন করাতে চাই না। আমরা পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাই।”
★ পুরো মাসজুড়ে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। কোথা থেকে কতটুকু বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সরকারি আবাসিক এলাকা, উপজেলা পর্যায়ের ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এ অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এরপর জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় রয়েছে ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি সরকারি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ২২৫টি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদ, আঙিনা ও আশপাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা জোরপূর্বক এটি করাতে চাই না। আমরা পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাই।”
তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচি শুধু উদ্বোধনী দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো মাসজুড়ে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। কোথা থেকে কতটুকু বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরের ছবি সংরক্ষণ করে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “কী পরিমাণ ময়লা অপসারণ ও সংগ্রহ করা হলো, তার প্রতিবেদন নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবনের আগের চিত্র কী ছিল এবং পরিচ্ছন্নতার পর কী পরিবর্তন হলো, সেই ছবিগুলোও আমরা সংগ্রহ করছি। সে অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
জেলা প্রশাসনের দাবি, বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করে এক দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে বড় পরিসরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।