ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কোনো কমিটি নেই) মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের এ আদেশ দেন।
ভোলার চরফ্যাশনে একটি পুরোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা, ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর এবং দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়াপট্টির বাসিন্দা দই ব্যবসায়ী মো. সালাম (৪৫)। বাদী চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিআর মামলা নং-৫৫৫/২০২৬) মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানাকে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি ও তাঁর পরিবার প্রায় ৫৫ বছর ধরে চরফ্যাশন বাজারের কাপুড়িয়াপট্টিতে একটি দোকানে দইয়ের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি অভিযুক্ত মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া, মো. আরাফাত হোসেন মালতিয়া এবং মো. ফাহাদ হোসেন মালতিয়া তাঁর দোকানটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল দুপুরে অভিযুক্তরা তাঁর দোকানে প্রবেশ করে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি এতে রাজি না হলে তাঁকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্তরা দোকানের তালা ভেঙে নিজেদের নতুন তালা লাগিয়ে চাবি নিয়ে যান এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত দোকান খুলতে নিষেধ করেন। বাদীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, বিষয়টি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের জানালেও কোনো সমাধান হয়নি। অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে থানায় মামলা করতে না পেরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৪৪৭, ৪২৭, ৩৮৫ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পরিদর্শক (সিআই) সেখ মো. নাসির উদ্দিন জানান, মামলার এক নম্বর আসামি মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। বুধবার (২৯ জুলাই) নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে এলে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।