কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় পৃথক অভিযানে ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার হওয়া দুই কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) তাদের কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নং-৫ এ সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় মেঘনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে দাখিল করা সোপর্দ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে মেঘনা থানার এসআই (নিরস্ত্র) সৈয়দ ছানাউল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জিডি নং-১৩১৮-এর ভিত্তিতে মোবাইল ডিউটিতে ছিলেন। দুপুর ২টা ৫ মিনিটে মেঘনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, ভাওরখোলা ইউনিয়নের খিরারচক উত্তরপাড়া সরকার বাড়ি জামে মসজিদের সামনের কাঁচা সড়কে এক ব্যক্তি গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
পরে অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে উদয় সাহা (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে। তল্লাশিকালে তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের সামনের ডান পাশের পকেট থেকে ৫০ গ্রাম কথিত গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদয় সাহা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তিনি মির্জানগর এলাকার হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি (৫৭) নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে গাঁজা সংগ্রহ করেছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটে মির্জানগর এলাকায় হাবিবুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায়। মেঘনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন অভিযানের সময় হাবিবুর রহমানকে আটক করা হলে তিনি নিজের একতলা ভবনের সিঁড়ির চৌকির ওপর রাখা একটি নীল পলিথিন থেকে ৫০০ গ্রাম কথিত গাঁজা বের করে দেন। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দতালিকা প্রস্তুত করে ওই গাঁজাও জব্দ করা হয়।
আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার দুই আসামি পরস্পর যোগসাজশে এলাকায় গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে তাদের পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কোনো নির্দিষ্ট পেশা নেই এবং মাদক বিক্রির মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ওসি আরও
জানায়, উদ্ধার হওয়া মোট ৫৫০ গ্রাম কথিত গাঁজা জব্দ করা হয়েছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।