নেত্রকোনার বারহাট্টার উজানগাঁও মনাষ আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, পরিচালনা কমিটি গঠনে অভিভাবকদের মতামত নেওয়া হয়নি। এছাড়া সভাপতি নির্বাচনেও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই পরিচালনা কমিটির তালিকা অনুমোদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক সেলিম গোপনে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা বোর্ডে পাঠিয়েছেন। সভাপতি পদে তিনি আনোয়ার হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। বিধি অনুযায়ী, সভাপতি পদে মনোনীত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান হওয়া প্রয়োজন। তবে আনোয়ার হোসেন ২০০৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস করেছেন। ওই সময়ের ফাজিল সনদ স্নাতক সমমানের নয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তারও সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই না করেই তালিকা শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. মিলন মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কমিটি গঠনের জন্য অভিভাবক সভা আহ্বানের নিয়ম থাকলেও এ বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। তাদের দাবি, এলাকায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও দূরবর্তী ছয়দানা গ্রাম থেকে সভাপতি আনা হয়েছে। তাঁকে সভাপতি করতে বিধি ভঙ্গ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির চারবারের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. হারুল মিয়া বলেন, আগে কমিটি গঠনের সময় ছাত্র-অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সভার মাধ্যমে কমিটি করা হতো। কিন্তু এবার গোপনীয়ভাবে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার জন্য কোনো নিয়মই মানা হয়নি। তিনি এ কমিটি বাতিল এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক সেলিম বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক যাদের নাম পাঠাতে বলেছেন, তিনি তাদের নামই পাঠিয়েছেন। সংসদ সদস্যের নির্দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। ২০০৫ সালের ফাজিল সনদ স্নাতক সমমান নয়—এ বিষয়টি তার জানা ছিল না বলেও জানান তিনি।
২০০৫ সালের ফাজিল সনদের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে নেত্রকোনা জেলা কেন্দ্রীয় আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘২০০৮ সাল এবং এর পর থেকে ফাজিল উত্তীর্ণদের সনদ স্নাতক সমমান হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে যারা ফাজিল পাস করেছেন, তাদের সনদ স্নাতক সমমানের নয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার বলেন, অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, ‘আমার সনদ স্নাতক সমমান কি না, তা যাচাই-বাছাই করেই আমাকে সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। আপনাদের যাচাই-বাছাই করার অনুমতি কে দিয়েছে? এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা মানে এমপির বিরোধিতা করা। আমি এমপির ডিও লেটারের মাধ্যমে সভাপতি হয়েছি।’
তবে এ বিষয়ে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হকের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির আহমেদ বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি প্রধান শিক্ষক, ইউএনও ও জেলা প্রশাসনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠন করা হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতায় কোনো ত্রুটি থাকলে তা শিক্ষাবোর্ডের নজরে আনা হবে।