• শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় নিহত কুহিনূরের পরিবারকে জামায়াত নেতার সমবেদনা, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা, দোয়া ও সমর্থন চাইলেন হাফিজুর রহমান শরীফ ৫নং কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতা খায়রুজ্জামান মিয়ার ভারতে নেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর হালুয়াঘাটের দর্শারপাড়, খন্দকপাড়া, দক্ষিণ খয়রাতুরি ও রঘুনাথপুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রশাসনের হাতে মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি পদ হারালেন রবিউল ইসলাম বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা: সার্জিও গর বর্তমান সংসদের দিকে দেশের ৩৬ কোটি চোখ নিবদ্ধ: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়: রাষ্ট্রদূত মুশফিক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সার্জিও গর, উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, আজ আমরা অনেক বেশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করছি। কিন্তু স্বাধীনতার অর্থ যা ইচ্ছা তাই বলা নয়। যে ভাষা আমরা নিজেদের পরিবারে ব্যবহার করি না, ড্রইংরুমে ব্যবহার করি না, সেই ভাষা কেন রাজনীতিতে ব্যবহার করব? সুতরাং ভাষা প্রয়োগে, শব্দচয়নে আমাদের অবশ্যই সংযম ও সুবিবেচনার পরিচয় দিতে হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে ড. মোবাশ্বরের একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনেকে রাষ্ট্রের সংস্কারের কথা বলেন- আমি মনে করি, আমাদের মানসিকতারও সংস্কার প্রয়োজন। আজ রাজনীতির নামে যে ভাষা ব্যবহার হচ্ছে, যে ধরনের শব্দচয়ন দেখা যাচ্ছে, তা আমাদের ব্যথিত করে।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি ভিন্নধর্মী উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী, এখানে আমরা বড়দের সম্মান করি, ছোটদের স্নেহ করি, আপন করে নেই। কিন্তু এখন রাজনীতির নামে যে ধরনের ভাষা ও আচরণ দেখা যাচ্ছে, তার জন্য আমরা সংগ্রাম করিনি। এই উদ্দেশে মোবাশ্বের হাসান নির্ঘুম রাত কাটাননি, পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখেননি, নিজের পরিবারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেননি।

তিনি অনুরোধ করে বলেন, আমরা স্বাধীনতা উপভোগ করব, তবে সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার যেন না হয়।

বিগত ১৭ বছরের সাংবাদিকতার ইতিহাস তুলে ধরে এ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে যখন সাংবাদিকতা ও লেখালেখির অবস্থান অত্যন্ত সংকুচিত ছিল, তখন ভয়, শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু কিংবা নানা চাপের কারণে অনেকেই নীরব ছিলেন। আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় ক্ষমতাসীনদের অনুগত হয়ে পড়েছিলেন। আমরা জানি, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতা ছিল না; সাংবাদিকদের অনেকেই বিবৃতি লেখকে পরিণত হয়েছিলেন। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম অনেকটা জনসংযোগ (পিআর) প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করছিল। সাংবাদিকতা তখন আর পেশা হিসেবে তার স্বাধীন চরিত্র ধরে রাখতে পারেনি।

তিনি বলেন, এমন একটি সময়ে, যখন দেশে সত্য কথা বলা যেত না, কেউ বলতে চাইতেন না কিংবা বলার সাহস পেতেন না, তখন ড. মোবাশ্বর এগিয়ে এসেছিলেন। এর কী পরিণতি হয়েছে, আপনারা শুনেছেন, আমাদেরও বলতে হয়েছে। কিন্তু এত কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তিনি পিছু হটেননি। রবীন্দ্রনাথের সেই কথার মতো—‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম’—তিনি সত্যকেই আঁকড়ে ধরেছিলেন।

অনেকে তখন বলতেন, প্রতিদিন একই বিষয় নিয়ে লিখে কী হবে? কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল, দেশে-বিদেশে এই লেখাগুলো একদিন মূল্যায়িত হবে। একসময় বিদেশে আমাদের নিয়ে তির্যক মন্তব্য করা হতো। কিন্তু এই লেখাগুলোই আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কারণ উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, এগুলো ছিল একটি বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত, তাও ইংরেজি ভাষায়। ফলে এগুলোকে আমরা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পেরেছি। আমি নিজে অসংখ্য বার তার লেখা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে তথ্যসূত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছি। তখন দেশের অনেক গণমাধ্যম আমাদের নাম পর্যন্ত নিতো না। কিন্তু একসময় একটি পত্রিকা আমাকে ‘সাংবাদিকতার নতুন ধারার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এসবই সম্ভব হয়েছে লেখনীর শক্তির কারণে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা যে সংগ্রাম করেছি, তার মূল লক্ষ্য ছিল মুক্ত মতপ্রকাশ নিশ্চিত করা—যাতে গণতন্ত্রের চর্চা থাকে, মানুষ নির্ভয়ে, নিঃসংকোচে ও নির্ভীকচিত্তে লিখতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সেই বাংলাদেশের পথে এগিয়ে গেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন