• রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
দেড় কিলোমিটারেই থমকে আছে মেঘনার প্রধান প্রবেশপথ আজহারুল ইসলাম মান্নানের রাজনৈতিক সচিব খাইরুল ইসলাম সজিব বরিশালে বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জনের মৃত্যু ধামইরহাটে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উখিয়ায় ১৫০ হেক্টর বাগান পরিদর্শন, চারা রোপণ করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ত্রিশালে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লালমোহনে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার চরফ্যাশনে মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার বাকেরগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রশংসিত বিএনপি নেতা ওবায়দুল ইসলাম মাহি উখিয়ায় টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু

দেড় কিলোমিটারেই থমকে আছে মেঘনার প্রধান প্রবেশপথ

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

আল মামুন:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ভাটেরচর হয়ে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় প্রবেশের পথটি ভৌগোলিকভাবে যতটা গুরুত্বপূর্ণ, বাস্তবতায় ততটাই অবহেলিত। বিশেষ করে ভাটেরচর সংযোগ সড়ক থেকে মেঘনা উপজেলার প্রবেশমুখের মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশ এখন যেন সড়ক নয়, দুর্ভোগের এক দীর্ঘ ফাঁদ। খানাখন্দ, ভাঙাচোরা পিচ, নিচু অংশে পানি জমে থাকা এবং বিভিন্ন স্থানে সড়কের কাঠামো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশের এমন দশা তৈরি হয়েছে যে, স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল করাই কঠিন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ছোট যানবাহনের চালকেরা খানাখন্দ এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সড়কের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো এর অবস্থান। এটি কোনো প্রত্যন্ত গ্রামের বিচ্ছিন্ন রাস্তা নয়; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মেঘনা উপজেলার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। সরকারি তথ্যেও ঢাকা থেকে মদনপুর, সোনারগাঁ ও গজারিয়া হয়ে ভাটেরচর দিয়ে মেঘনা উপজেলায় আসার পথটিকে প্রধান সড়ক যোগাযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেড় কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ বালুর নিচে চলে গেছে। কোথাও তৈরি হয়েছে বড় গর্ত, কোথাও আবার গর্তে বৃষ্টির পানি জমে তা বোঝার উপায় থাকে না কতটা গভীর। ভারী যান চলাচল কিংবা বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একদিকে মহাসড়ক থেকে দ্রুত উপজেলা সদরে পৌঁছানোর সুযোগ, অন্যদিকে এই ছোট্ট অংশের বেহাল দশা পুরো যাতায়াত ব্যবস্থাকেই ধীর করে দিচ্ছে।

কয়েক বছর ধরে একই অংশের দুরবস্থার কথা প্রকাশ্যে আসলেও স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। আরও বিস্ময়কর হলো—সড়কটির গুরুত্ব নিয়ে কোনো দ্বিমত থাকার সুযোগ নেই। সরকারি নথিতে ‘ঢাকা (সায়েদাবাদ)-মেঘনা উপজেলা (কুমিল্লা জেলার) ভায়া ভাটেরচর’ রুটের দৈর্ঘ্য ৪২ কিলোমিটার হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

এই বিশাল যোগাযোগপথের একটি ছোট অংশ যদি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তার প্রভাব শুধু ওই দেড় কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ থাকে না। মহাসড়ক থেকে উপজেলা পর্যায়ে মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, রোগী বহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের গর্তগুলো এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনকে কখনো এক পাশ দিয়ে, কখনো আবার বিপরীত পাশ দিয়ে চলতে হয়। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঝুঁকি আরও বেশি। সড়কের গর্ত ও ভাঙা অংশ যথাসময়ে দৃশ্যমান না হওয়ায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালকদের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একটি আঞ্চলিক সড়কের মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশ কি বছরের পর বছর এমন অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে?

প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, এই পথটি মেঘনা উপজেলার সঙ্গে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের অংশ। একসময় সড়কটি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার ও উন্নয়নের আলোচনা হলেও বাস্তবে স্থায়ীভাবে টেকসই সংস্কার না হলে একই দুর্ভোগ বারবার ফিরে আসে।

এর আগে মেঘনা-ভাটেরচর সড়কের প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার অংশ নিয়েও বেহাল অবস্থার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ, বৃষ্টির পানি ও কাদায় চলাচলের দুরবস্থার কথা উঠে আসে। তবে এই প্রতিবেদনের অনুসন্ধানের বিষয়টি পুরো সাড়ে ৯ কিলোমিটার নয়—শুধু ভাটেরচর সংযোগের কাছের ওই দেড় কিলোমিটার সংকটাপন্ন অংশ।

এখানে আরেকটি বিষয় সামনে আসে—সড়কটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়, মেঘনার অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বারও। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় এ পথে কৃষিপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন করা হয়। ফলে রাস্তার দুরবস্থার কারণে যানবাহনের সময় ও জ্বালানি খরচ বাড়ে। যাত্রীদেরও গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগে।

সড়কটির এমন পরিস্থিতি স্থানীয় উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার একটি বড় প্রশ্নও সামনে আনে। কারণ বড় প্রকল্প, সেতু কিংবা মহাসড়কের উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও সংযোগের শেষ দেড় কিলোমিটার যদি ভাঙাচোরা থাকে, তাহলে পুরো যোগাযোগব্যবস্থার সুফল অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন এই অংশের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, গর্ত সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় পুনর্নির্মাণ করা না হলে বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে গর্তে মাটি বা ইট ফেলে দায়সারা সংস্কারের বদলে প্রকৌশলগত সমীক্ষা করে স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কার করতে হবে।

মেঘনার প্রবেশমুখের এই দেড় কিলোমিটার এখন তাই শুধু একটি ভাঙা সড়কের গল্প নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক যোগাযোগপথের ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতার প্রশ্ন। মহাসড়ক থেকে উপজেলা সদরে ঢোকার মুখেই যদি মানুষের প্রতিদিনের যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার দাবি কতটা বাস্তব—সেটিই এখন স্থানীয়দের বড় প্রশ্ন।

দেড় কিলোমিটার রাস্তা খুব বেশি নয়। কিন্তু এই ছোট্ট অংশটিই প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে ছোট এই ভাঙনই একসময় বড় জনদুর্ভোগে রূপ নেবে—এমন আশঙ্কাই এখন স্থানীয়দের।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন