• বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
গোয়াতলা–নাগলা সড়কে ওভারলোড বালুবাহী ট্রাকের দাপট বাস স্টেশন থাকার পরও হালুয়াঘাটে সড়কের দুই পাশে গাড়ি পার্কিং ত্রিশালে ‘অবৈধ’ বালুর ঘাটের কর্মীকে ইউএনওর মারধরের অভিযোগ ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদারের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পৌর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কালিয়াকৈরে তীব্র বিদ্যুৎ-সংকট, দিনে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে ব্যাহত রপ্তানি পাঁচবিবির আওলাইয়ে এমপি ফজলুর রহমান সাঈদকে ঘিরে প্রাণবন্ত মতবিনিময় জয়পুরহাটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন ডিআইজি মেঘনায় যে কারণে মাদকসহ সামাজিক বিপর্যয় ঠেকানো যাচ্ছে না ত্রিশালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৩ সদস্যের কমিটি পুনর্গঠন

কালিয়াকৈরে তীব্র বিদ্যুৎ-সংকট, দিনে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে ব্যাহত রপ্তানি

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ খাইরুল ইসলাম:

দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটে ১০ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাতে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে মৌচাক, তেলিরচালা ও চন্দ্রা এলাকার গার্মেন্টস-টেক্সটাইল কারখানার চাহিদাই ১২০ মেগাওয়াটের বেশি। তবে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি ও গ্যাস সংকটের কারণে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এতে শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য ও নির্মাণ খাতসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। কালিয়াকৈর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, চাহিদার মাত্র ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ মেলায় রেশনিং করে সংযোগ সচল রাখা হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে কালিয়াকৈর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় করুণ চিত্র। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনরা তীব্র গরমে হাতপাখা বা ফাইল দিয়ে বাতাস করছেন। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া তানসিম আক্তার মুনমুন জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে জরুরি বিভাগ অচল হয়ে পড়েছে। গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অপারেশন, রোগীদের নেবুলাইজার, আইসিইউর অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, এক্স-রে ও প্যাথলজি পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে জেনারেটরও সীমিত সময়ের বেশি চালানো যাচ্ছে না।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে মৌচাক ও চন্দ্রার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিজিএমইএর স্থানীয় নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লাখ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হবে এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হবে। এ ছাড়া গভীর নলকূপ ও পাম্প বন্ধ থাকায় সেচ দিতে পারছেন না আমন চাষিরা। বাসাবাড়িতে দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কম্পিউটার ল্যাব বন্ধ থাকার পাশাপাশি রাতে অন্ধকারে চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যুতের এমন চরম ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে কালিয়াকৈর উপজেলা নাগরিক কমিটি ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন