গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্কে ‘রাজু বাহাদুর’ নামে একটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। অন্য একটি হাতির সঙ্গে সংঘর্ষে পা ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিল হাতিটি। তার চিকিৎসার জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকেও চিকিৎসক আনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
গত ১৩ আগস্ট দুপুরে শ্রীপুর থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য যাচাই করতে গিয়ে হাতিটির মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্ক কর্তৃপক্ষ হাতিটির মৃত্যুর ঘটনা গোপন রাখার চেষ্টা করেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, অন্য একটি হাতির সঙ্গে সংঘর্ষে পা ভেঙে যাওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ আগস্ট দুপুরে ‘রাজু বাহাদুর’ মারা যায়।
পার্ক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে জীর্ণশীর্ণ ও আহত অবস্থায় হাতিটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। সে সময় হাতিটিকে দিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। উদ্ধারের সময় রাজু বাহাদুরের বয়স ছিল প্রায় ৯ বছর।
উদ্ধারের পর থেকে হাতিটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কের হাতিশালায় পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সম্প্রতি অন্য একটি হাতির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে গিয়ে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যায়। এরপর থেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল হাতিটি।
পার্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে রাজু বাহাদুরকে সুস্থ করে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসার সুবিধার্থে থাইল্যান্ড থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয়েছিল। তবে শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে শুয়ে শুয়েই খাবার গ্রহণ করতে হতো। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গত ৭ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. তারেক রহমান হাতিটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “৭ আগস্ট পা ভাঙা হাতিটি মারা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের পর হাতিটিকে পার্কের ভেতরেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।”
তথ্য গোপনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “লুকোচুরির বিষয়টি সঠিক নয়। হাতির মৃত্যুর পরপরই বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাসময়ে অবহিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, হাতিশালায় হাতিদের নিজেদের মধ্যে প্রায়ই ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়ে থাকে, যা স্বাভাবিক আচরণের অংশ। অন্য একটি হাতির ধাক্কায় নিচে পড়ে গিয়ে রাজু বাহাদুরের পা ফ্র্যাকচার হয়েছিল। এরপর মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, “সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ একটি হাতি মারা যাওয়ার ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।”