ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত, আধুনিক ও উন্নত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শফিকুল মাতুব্বর। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সরকারি সব অনুদান ও সুযোগ-সুবিধা স্বচ্ছতা এবং সুষম বণ্টনের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
শফিকুল মাতুব্বর বলেন, “চেয়ারম্যান হতে পারলে সরকারি সকল অনুদান ও সুযোগ-সুবিধা সুষম বণ্টনের মাধ্যমে কাইচাইল ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো। ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের অধিকার ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”
তিনি বলেন, কাইচাইল ইউনিয়নের উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, যুবসমাজ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শফিকুল মাতুব্বরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইউনিয়নের দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, বয়স্ক নারী-পুরুষদের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন সহায়তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ভিজিডি ও ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা, দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা প্রদান এবং ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য সরকারি গৃহ নির্মাণ সহায়তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহায়তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে মাছের পোনা এবং গবাদিপশু সহায়তা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ এবং যুবকদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর উন্নয়ন ভাবনায়।
শফিকুল মাতুব্বর বলেন, “কাইচাইল ইউনিয়নের কোনো মানুষ যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতে চাই। দল-মত ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।”
ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন, ড্রেন নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় স্থানে সৌরবাতি স্থাপন এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করা।
এ ছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রসার, তরুণদের বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁর মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে ইউনিয়নের আর্থসামাজিক উন্নয়ন আরও গতিশীল করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, “শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করলেই একটি ইউনিয়ন উন্নত হয় না। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ। তাই কাইচাইল ইউনিয়নকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় স্থানে টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন এবং বিশুদ্ধ পানির সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি।
শফিকুল মাতুব্বরের ঘোষিত পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো—কাইচাইল ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টনের মাধ্যমে একটি উন্নত ও আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, “জনগণের সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেলে কাইচাইল ইউনিয়নকে শুধু উন্নত নয়, একটি মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এ জন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”