• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় মুদি দোকানে চুরি, তিনজন গ্রেপ্তার ফটিকছড়িতে অস্ত্রসহ ৪ জন গ্রেফতার চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৪০, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা-মদ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের পদে থাকার অভিযোগে চান্দিনা থানা প্রেস ক্লাব থেকে এম.এ খায়ের ইমন বহিষ্কার কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার উদ্যোগে দিনব্যাপী হেলথ ক্যাম্প জ্বালানি সংকট কাটাতে নবায়নযোগ্য শক্তিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের গুমের বিচার ও সংকটের প্রতিবাদে রোববার সংসদ অভিমুখে ১১ দলের পদযাত্রা নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক চট্টগ্রাম রেঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২৩ সরকারি একটি ঘর পেলে পরিবার নিয়ে থাকতে পারতাম, ঝুপড়ি ঘরে এক যুগ খগেন মন্ডলের পরিবার

ফটিকছড়িতে অস্ত্রসহ ৪ জন গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের পর ‘দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পুলিশের তালিকায় থাকা কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাতে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি থানার পুলিশ এ অভিযান চালায়।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারী মোবারক ও তাঁর সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মুহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোবারক (৩৭) ফটিকছড়ির কাঞ্চনগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোবারককে শনাক্ত করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তলও তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মোবারক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁদের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। অস্ত্র ব্যবহারে সে দক্ষ। ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলায় তাঁর নাম রয়েছে।
জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারকের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকায় বড় সাজ্জাদের নির্দেশের বাইরেও নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিলের তৈরি একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, ইতালির তৈরি একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, পাকিস্তানের তৈরি একটি বিদেশি রিভলবার এবং একটি দেশীয় পিস্তল। এ ছাড়া ৯ এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড ও ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন এবং তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা ও চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে, উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তলটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র। অস্ত্রটি কীভাবে অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)। তাঁদের তিনজনেরই ঠিকানা ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায়।
এর আগে পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আফসার, ধামা ইলিয়াস ও দিদারকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ একাধিক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বলছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন