ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে বিলটি জাতীয় সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদানসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই বিল প্রণয়ন ও উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
বৈঠকের একপর্যায়ে কমিটির সদস্য মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন ওয়াকআউট করেন। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, কমিটির সদস্যদের কোনো সংশোধনী বা মতামত থাকলে তা সভায় উপস্থাপন, পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজনে বিরোধিতা করার সুযোগ রয়েছে। এটিই কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব।
তবে সভা থেকে ওয়াকআউট করা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে বলা হয়, গত ছয় মাসে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। একই সময়ে মব তৈরির চেষ্টা চললেও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে মিরাজ শেখের অপহরণের দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও আলোচনা হয়। এ ধরনের দোষারোপের রাজনীতি বা ‘ব্লেম গেম’ পরিহার করা উচিত বলে মত দেন বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলোর মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।