মেঘনায় ১০ ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার মেঘনায় ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. শাহাব উদ্দিন (১৯) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার ২ নম্বর মানিকারচর ইউনিয়নের বক্তার বাড়ির সামনে গ্রাম্য কাঁচা রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মানিকারচর বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মানিকারচর ইউনিয়নের বক্তার বাড়ির সামনে এক ব্যক্তি মাদক বিক্রি করছেন। পরে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শাহাব উদ্দিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি করে তাঁর পরনের প্যান্টের ডান পকেট থেকে নীল রঙের বায়ুরোধক জিপারযুক্ত পলিথিনে রাখা ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন এক গ্রাম বলে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ২০ মিনিটে টর্চের আলোতে জব্দ তালিকা তৈরি করে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়। এ সময় সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেওয়ার পাশাপাশি জব্দের স্থিরচিত্র ধারণ করা হয়।
গ্রেপ্তার শাহাব উদ্দিন মানিকারচর (বক্তার বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে মেঘনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার টেবিল ১০(ক)-এ মামলা করা হয়েছে। মামলাটি মেঘনা থানার মামলা নম্বর ১৯, তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আকতারুজ্জামান আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্বল্প সময়ে তাঁর নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়াতে পারেন এবং মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহাব উদ্দিনকে যথাযথ পুলিশ পাহারায় কুমিল্লার আমলী আদালত-৫-এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।