ঢাকা   ০২:০১:২৩ পিএম, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষিপণ্য হবে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য: কৃষিমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, October 3, 2026,
  • 6 Time View

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মাটি, আবহাওয়া, আলো-বাতাস ও বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিশ্রমী জনগোষ্ঠী এবং প্রাকৃতিক এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্যকে মূল্য সংযোজন করে আগামী দিনে কৃষিপণ্য বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইনস্টিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু খাদ্যের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিপণ্য থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষি বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে কীটপতঙ্গ দমনের বিকল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে কৃষকরা রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষির দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু কীটনাশক সরকার নিষিদ্ধ করেছে। তবে শুধু ক্ষতিকর কীটনাশক নিষিদ্ধ করলেই হবে না, এর বিকল্পও উদ্ভাবন করতে হবে। আমরা কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আমাদের নিজেদের এবং আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে খাদ্যের শুধু অভাব নয়, সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে এমন খাদ্য, যা মানুষের পেট ভরানোর পাশাপাশি তাকে সুস্থ রাখবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিমুখী দেশে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, টমেটো, গাজরসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়েছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, “এ বছর এখন পর্যন্ত আমরা পেঁয়াজ আমদানি করিনি। আশা করছি, ভবিষ্যতেও আর পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশে শুধু কৃষিপণ্য আমদানি হবে না; বরং পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানি হবে।”
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হবে। কৃষিই আগামী দিনে বাংলাদেশের রপ্তানির অন্যতম প্রধান খাত হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃষকেরা যে পরিশ্রম করে দেশের মানুষের খাদ্যের জোগান দিচ্ছেন, সেই শ্রমকে সম্মান করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে কৃষির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক করতে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষির আধুনিকায়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি