ঢাকা   ১২:৫৬:৩৫ পিএম, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকায় আসছেন কানাডার উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, দুর্ভোগে পর্যটকরা তাপমাত্রা বাড়বে, পাঁচ দিন পর বৃষ্টির আভাস কালো গাউনে সাদা গোলাপে মুগ্ধ মেহজাবীন নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দম্পতিসহ দগ্ধ ৪ সোমবার থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু বিচারাধীন থাকলে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত করা যাবে না : হাইকোর্টের রায় সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে অপপ্রচার, সতর্ক করল আইএসপিআর রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২ মেঘনায় বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ, ওসি-ইউএনও’র দাবি তর্কাতর্কি

বিচারাধীন থাকলে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত করা যাবে না : হাইকোর্টের রায়

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, October 11, 2026,
  • 5 Time View

কোনো জমির স্বত্ব ও মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে দেওয়ানি বিরোধ বিচারাধীন থাকলে সেই জমিকে অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা অবমুক্ত করা যাবে না মর্মে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, বিচারাধীন দেওয়ানি মামলায় চূড়ান্তভাবে স্বত্ব নির্ধারিত হওয়ার পর রায়ে বিজয়ী পক্ষের অনুকূলে বিতর্কিত সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করা, অর্থাৎ বাদ দেওয়া যাবে।

সাহাবুদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলায় এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

জমির স্বত্ব ও মালিকানা নিয়ে দায়ের করা পৃথক দুটির রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ মে এ রায় দেন।

২২ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিম।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া। বিবাদী পক্ষে ছিলেন মো. নাসির শিকদার। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মিতুল ভৌমিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মির্জা আল মাহমুদ ও আখতার হোসেন মো. আবদুল ওহাব।

মামলার পটভূমি

প্রকাশিত রায়ের বিবরণে দেখা যায়, ফরিদপুর জেলার ৭.২৩ শতাংশ জমিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূচনা। জমিটির মূল মালিক ছিলেন যমুনা চামার ও গয়ানাত চামার। পরবর্তীতে হস্তান্তরের ধারাবাহিকতায় অনিল কুমার দত্ত জমিটি প্রাপ্ত হন এবং তার দান সূত্রে পুত্র অলোক কুমার দত্ত স্বত্বাধিকারী হন। অলোক কুমার দত্ত ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাই একটি রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে জমিটি শাহাবুদ্দিন আহমেদের (রিট আবেদনকারী) কাছে বিক্রি করেন এবং দখল বুঝিয়ে দেন।

অপরদিকে, মো. জাহিদুর রহমান (মামলায় রেসপন্ডেন্ট নং ৪) দাবি করেন, অলোক কুমার দত্ত ১৯৯৬ সালের ২৩ মে তার সঙ্গে উক্ত জমি বিক্রয়ের জন্য একটি বায়নাপত্র সম্পাদন করেছিলেন। চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে তিনি ২০০১ সালে বায়নাপত্র চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন চেয়ে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর একতরফা ডিক্রি পেয়ে ২০০৩ সালে আদালতের মাধ্যমে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের অধিকারী হন।

উক্ত রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট ফরিদপুরের জেলা জজের আদালতে টাইটেল আপিল দায়ের করেন রিটকারী সাহাবুদ্দিন আহমেদ।

পরে বিলম্ব মার্জনা করে টাইটেল আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন আদালত। পরে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণের আদেশের বিরুদ্ধে মো. জাহিদুর রহমান হাইকোর্টে দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায় সিভিল রিভিশন দায়ের করেন।

হাইকোর্টে শুনানি শেষে এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হয়। আগের আদেশ বাতিল করে ফরিদপুরের জেলা জজকে আপিল গ্রহণের বিষয়ে নতুন করে শুনানি করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

সেই নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৩ সালের ২৫ মে ফরিদপুরের জেলা জজ আপিলটি গ্রহণ করেন। আদালতের এই আদেশে আবারও সংক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে ২০২৪ সালে জাহিদুর রহমান হাইকোর্টে আবার সিভিল রিভিশন দায়ের করেন। একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেন আদালত। সেই সিভিল রিভিশন এখনো হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন।

উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি

শুনানি চলাকালে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া আদালতকে অবহিত করে বলেন, ১৯৯৬ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে স্বত্ব অর্জনের পর থেকে আবেদনকারী উক্ত জমি নিষ্কণ্টক ভোগদখলে আছেন। তিনি যুক্তি দেন, ২০০১ সালের চুক্তি সম্পাদনের মামলায় শাহাবুদ্দিন আহমেদকে পক্ষভুক্ত না করায় উক্ত ডিক্রি ও পরবর্তী দলিল আইনি দৃষ্টিতে অকার্যকর এবং পূর্বের রেজিস্ট্রিকৃত দলিলটি আইনের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী দলিলের ওপর প্রাধান্য পাবে।

অন্যদিকে, জাহিদুর রহমানের আইনজীবী মো. নাসির শিকদার দাবি করেন, তার মক্কেলের বায়নাপত্র দলিলটি ১৯৯৬ সালের ২৩ মে সম্পাদিত, যা আবেদনকারীর দলিলের পূর্ববর্তী। আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে অর্জিত স্বত্ব ও দলিলের ভিত্তিতে আপিল ট্রাইব্যুনাল সঠিক রায় দিয়েছেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত

আদালত বলেন, অলোক কুমার দত্ত ও জাহিদুর রহমানের মধ্যে হওয়া বায়নাপত্র দলিল সম্পাদন নিয়ে টাইটেল মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালে রায় ও ডিক্রি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, অলোক কুমার দত্তের কাছ থেকে রিটকারী সাহাবুদ্দিন আহমেদের জমি কেনা সংক্রান্ত বিক্রয় দলিলের সত্যতা/বৈধতা নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। যা এই সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যধারায় নির্ধারণ করা যায় না।

মামলার এসব ঘটনা ও পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, এই রিট আবেদনগুলোতে সম্পত্তির অধিকার, মালিকানার স্বত্ব এবং স্বার্থ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এই রিট এখতিয়ারের সংক্ষিপ্ত বিচারে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়।

উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করে আমরা মনে করি, বর্তমান রিট আবেদনে জড়িত বিরোধীয় সম্পত্তির স্বত্ব আগে উপযুক্ত দেওয়ানি আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হতে হবে। বিরোধীয় সম্পত্তির স্বত্বের প্রশ্ন উপযুক্ত দেওয়ানি আদালত কর্তৃক নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তিটি এই মামলার বাদী সাহাবুদ্দিন আহমেদের অনুকূলে কিংবা এই মামলার অন্যতম বিবাদী জাহিদুর রহমানের অনুকূলে অবমুক্ত করা উচিত নয়।

তাই আমরা উপরোক্ত পর্যবেক্ষণসহ রিট আবেদন দুটি নিষ্পত্তি করতে ইচ্ছুক। ফলস্বরূপ, নিম্নলিখিত নির্দেশনাসহ উভয় রুল নিষ্পত্তি করা হলো।

ফরিদপুরের ডেপুটি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হলো, এ সংক্রান্ত বিষয়ে সিভিল রিভিশন এখনো হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন। তাই রিটকারী সাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং এই মামলার অন্যতম বিবাদী জাহিদুর রহমানের মধ্যে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আইনি লড়াইয়ে যে পক্ষের অনুকূলে সম্পত্তির মালিকানার স্বত্ব নির্ধারিত হবে; বিরোধীয় সম্পত্তি সেই পক্ষের অনুকূলে অবমুক্ত করতে হবে। সে পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিরোধীয় সম্পত্তির দখলের বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। এই রায়ের একটি অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি