ঢাকা   ১১:৪২:৫৭ পিএম, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সভা শুরু, ঋণ নিয়ে আলোচনা

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, October 11, 2026,
  • 0 Time View

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা শুরু হচ্ছে সোমবার (১২ অক্টোবর)। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের সভায় বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ প্রস্তাব এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

বার্ষিক সভায় অংশ নিতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে রয়েছেন বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ। বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ ও সহায়তা দিয়ে থাকে সংস্থা দুটি।

২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এরই মধ্যে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগের ঋণ কর্মসূচি বাতিলের পর আইএমএফের সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি নতুন কর্মসূচিতে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বার্ষিক সভায় এ কর্মসূচির বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে ঋণের শর্ত নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সরকারি ভর্তুকি কমানোর বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, কম রাজস্ব আদায় এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাপে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও কার্যকর সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এসব বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন হার। রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয়ের জন্য সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় নিয়েও সভায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ব্যাংককে পৌঁছেছেন। সম্মেলন ঘিরে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার ও আশপাশের এলাকা নতুন করে সাজানো হয়েছে। সম্মেলনস্থলের সামনের সড়কে লাল গালিচার আদলে রং করা হয়েছে। পুরো এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। ডগ স্কোয়াড দিয়ে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে নিয়মিত। অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াতের জন্য সম্মেলনস্থল থেকে বিভিন্ন রুটে বিনা মূল্যে বাস চলাচল করছে।

সম্মেলনস্থলের সভাকক্ষ, রেস্তোরাঁ, খুচরা পণ্যের দোকান, প্রার্থনার স্থান, ফুড কোর্ট ও প্রেস সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল ভবনের পাশের একটি সাবেক তামাক কারখানায় নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। কারখানাটিতে বর্তমানে তামাক উৎপাদনের কার্যক্রম নেই; নতুনভাবে সাজিয়ে নিবন্ধনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সাংবাদিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থমন্ত্রীরা সেখানে নিবন্ধন করছেন এবং প্রবেশের জন্য পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছেন। মূল ভবনে প্রবেশের জন্য পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে। নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্টের পাশাপাশি নিবন্ধনপত্রের ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হচ্ছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এবারের বার্ষিক সভায় ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি