https://bindubanglatv.com/
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি গণতন্ত্রের ভিত্তি, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূলের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাই এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অপরাধী চক্র, সহিংসতানির্ভর গোষ্ঠী কিংবা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি যাতে জনরায়কে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজন রাজনৈতিক সচেতনতা, আইনের শাসন এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
সরকার এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক দিন-তারিখ ঘোষণা না করলেও সম্ভাব্য নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রস্তুতি ও তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ গোপনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্মকাণ্ড, আইনগত অবস্থান ও গণতান্ত্রিক আচরণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অপশক্তি চেনার মাপকাঠি হোক কর্মকাণ্ড, পরিচয় নয়
‘অপশক্তি’ বলতে কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বোঝালে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যাবে না। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায়, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বে জড়িত থাকে, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করে কিংবা জনগণের অধিকার হরণ করতে চায়—তাদের যে রাজনৈতিক পরিচয়ই থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, কিন্তু ব্যক্তির যোগ্যতার প্রশ্নে আইনের প্রয়োগ জরুরি
স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। এই প্রশ্নে আবেগনির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে আইনগত অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি।
২০২৬ সালের ১০ জুন নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া প্রার্থিতা এবং যোগ্যতার শর্তসংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করার কথা জানায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১০ জুনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই খসড়ায় কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রাখা হয়নি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটির নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে সরকারের বক্তব্য ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের মধ্যে বিতর্কও রয়েছে।এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং দ্বিতীয়ত, কোনো ব্যক্তির স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা—দুটি এক প্রশ্ন নয়। সংশ্লিষ্ট আইন, আদালতের আদেশ, নির্বাচনবিধি এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আলোকে প্রতিটি বিষয় নির্ধারণ করতে হবে।
কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচার হতে হবে। আইন অনুযায়ী কেউ অযোগ্য হলে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া যাবে না। আবার কেবল রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত বিদ্বেষের কারণে আইনসম্মত অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করাও গ্রহণযোগ্য নয়। গণতন্ত্র রক্ষার নামে আইনের শাসন দুর্বল করা হলে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে অতীতের ক্ষমতার অপব্যবহার, দমন-পীড়ন, সহিংসতা কিংবা জনগণের অধিকার হরণের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে ভোটারদের উচিত সেই ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া। জনগণের ভোট কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের স্বয়ংক্রিয় সনদ নয়; এটি জনসেবার জন্য দেওয়া একটি দায়িত্ব।
তৃণমূলের নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
জাতীয় রাজনীতির বড় বড় সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই এসে পড়ে। কিন্তু সেই জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান নির্ভর করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর।
জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, গ্রামীণ সড়ক, ড্রেনেজ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দরিদ্র মানুষের সহায়তা, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার—এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অসৎ বা অযোগ্য জনপ্রতিনিধির কারণে একটি এলাকার উন্নয়ন বছরের পর বছর বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিপরীতে, সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব সীমিত সম্পদ দিয়েও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই স্থানীয় নির্বাচনকে কেবল দলীয় প্রভাব বিস্তারের লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখানে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাঁরা কেমন নেতৃত্ব চান—জনসেবক, নাকি ব্যক্তিস্বার্থের পাহারাদার; উন্নয়নমুখী প্রতিনিধি, নাকি ক্ষমতার দাপট দেখানো ব্যক্তি।
কোনো প্রার্থী যদি জনগণের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি সম্পদ দখল, চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের মুখোমুখি হন, তাহলে তাঁকে প্রকাশ্যে জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
নির্বাচনে অপশক্তির প্রভাব ঠেকানোর দায়িত্ব শুধু ভোটারদের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রধান শর্ত হলো—কারও প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে আইন প্রয়োগ করা এবং ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রথম আলো অনলাইনের ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। দ্য ডেইলি স্টার ১৫ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য প্রথম ধাপের জন্য ১২ নভেম্বরের কথা উল্লেখ করে। তবে এসব ছিল পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য; চূড়ান্ত নির্বাচনী তফসিলের সঙ্গে এগুলোকে এক করে দেখা যাবে না।
নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর প্রস্তুতি প্রয়োজন। সম্ভাব্য সংঘাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে, মনোনয়ন যাচাই থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিধিমালা সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে। কোনো প্রার্থী বা গোষ্ঠী যেন প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠছাড়া করতে না পারে। ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ভোটারদের ভয় দেখানো কিংবা ফলাফল প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা দ্রুত প্রতিরোধ করতে হবে।
পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হলে তা দূর করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান ও আইনসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; আবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে আইনের অপপ্রয়োগও বন্ধ রাখতে হবে।
অপশক্তি চেনার মাপকাঠি হোক কর্মকাণ্ড, পরিচয় নয়
‘অপশক্তি’ বলতে কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বোঝালে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যাবে না। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায়, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বে জড়িত থাকে, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করে কিংবা জনগণের অধিকার হরণ করতে চায়—তাদের যে রাজনৈতিক পরিচয়ই থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, কিন্তু ব্যক্তির যোগ্যতার প্রশ্নে আইনের প্রয়োগ জরুরি
স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। এই প্রশ্নে আবেগনির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে আইনগত অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি।
২০২৬ সালের ১০ জুন নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া প্রার্থিতা এবং যোগ্যতার শর্তসংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করার কথা জানায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১০ জুনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই খসড়ায় কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রাখা হয়নি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটির নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে সরকারের বক্তব্য ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের মধ্যে বিতর্কও রয়েছে
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং দ্বিতীয়ত, কোনো ব্যক্তির স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা—দুটি এক প্রশ্ন নয়। সংশ্লিষ্ট আইন, আদালতের আদেশ, নির্বাচনবিধি এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আলোকে প্রতিটি বিষয় নির্ধারণ করতে হবে।
কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচার হতে হবে। আইন অনুযায়ী কেউ অযোগ্য হলে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া যাবে না। আবার কেবল রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত বিদ্বেষের কারণে আইনসম্মত অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করাও গ্রহণযোগ্য নয়। গণতন্ত্র রক্ষার নামে আইনের শাসন দুর্বল করা হলে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে অতীতের ক্ষমতার অপব্যবহার, দমন-পীড়ন, সহিংসতা কিংবা জনগণের অধিকার হরণের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে ভোটারদের উচিত সেই ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া। জনগণের ভোট কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের স্বয়ংক্রিয় সনদ নয়; এটি জনসেবার জন্য দেওয়া একটি দায়িত্ব।
তৃণমূলের নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
জাতীয় রাজনীতির বড় বড় সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই এসে পড়ে। কিন্তু সেই জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান নির্ভর করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর।
জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, গ্রামীণ সড়ক, ড্রেনেজ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দরিদ্র মানুষের সহায়তা, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার—এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অসৎ বা অযোগ্য জনপ্রতিনিধির কারণে একটি এলাকার উন্নয়ন বছরের পর বছর বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিপরীতে, সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব সীমিত সম্পদ দিয়েও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।তাই স্থানীয় নির্বাচনকে কেবল দলীয় প্রভাব বিস্তারের লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখানে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাঁরা কেমন নেতৃত্ব চান—জনসেবক, নাকি ব্যক্তিস্বার্থের পাহারাদার; উন্নয়নমুখী প্রতিনিধি, নাকি ক্ষমতার দাপট দেখানো ব্যক্তি।
কোনো প্রার্থী যদি জনগণের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি সম্পদ দখল, চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের মুখোমুখি হন, তাহলে তাঁকে প্রকাশ্যে জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
নির্বাচনে অপশক্তির প্রভাব ঠেকানোর দায়িত্ব শুধু ভোটারদের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রধান শর্ত হলো—কারও প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে আইন প্রয়োগ করা এবং ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রথম আলো অনলাইনের ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। দ্য ডেইলি স্টার ১৫ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য প্রথম ধাপের জন্য ১২ নভেম্বরের কথা উল্লেখ করে। তবে এসব ছিল পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য; চূড়ান্ত নির্বাচনী তফসিলের সঙ্গে এগুলোকে এক করে দেখা যাবে না।
নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর প্রস্তুতি প্রয়োজন। সম্ভাব্য সংঘাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে, মনোনয়ন যাচাই থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিধিমালা সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে। কোনো প্রার্থী বা গোষ্ঠী যেন প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠছাড়া করতে না পারে। ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ভোটারদের ভয় দেখানো কিংবা ফলাফল প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা দ্রুত প্রতিরোধ করতে হবে।
পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হলে তা দূর করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান ও আইনসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; আবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে আইনের অপপ্রয়োগও বন্ধ রাখতে হবে।