ঢাকা   ১১:১৮:৫২ এএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপান সফর শেষে ঢাকায় ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Friday, October 30, 2026,
  • 1 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফর অনুষ্ঠিত হয়।

সফরকালে ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নানা দিক উঠে আসে। বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করতে একটি জাপানি প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশে আসবে বলে জানানো হয়।

সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ৬টি সরকারি সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২.১২ বিলিয়ন ইয়েনের অনুদান চুক্তি এবং ২পর্যায়ের ‘উপজেলা শাসন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের দুটি ‘ইয়েন-লোন’ ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর বাইরে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

২৮ অক্টোবর টোকিওতে ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে অটোমোবাইল, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ, উচ্চগতির রেল এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ—এই ৫টি অগ্রাধিকারমূলক খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, জেবিআইসি গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রো প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সুমিতোমো কর্পোরেশন ও জেরার মতো শীর্ষ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী ফুত্তসুতে ‘জেরা’ এলএনজি টার্মিনাল, ইচিকাওয়ার ‘নিতসু’ লজিস্টিকস হাব এবং নাগোয়াতে টয়োটার মোতোমাচি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা মেট্রোরেল, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্পে জাপানের অংশীদারিত্ব রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি