ঢাকা   ০৫:৫৪:০২ পিএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড়, বিপদে যেসব অঞ্চল

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, November 1, 2026,
  • 1 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে অবশেষে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর নাগাদ উপকূলে আঘাত হানতে পারে নতুন সৃষ্টি এই ঘূর্ণিঝড়টি।

রোববার (১ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনই বার্তা দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

নতুন সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’। এটি একটি তামিল শব্দ, যার অর্থ ‘ঢোল’। নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত।

আইএমডির বার্তা অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ও এর সংলগ্ন মধ্য-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ে রাজ্যটির উপকূলে আবারও বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। সে সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার।

আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সামান্য আশঙ্কা রয়েছে। তবে আপাতত ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে। আর দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাবে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আইএমডি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৩ নভেম্বর এসব এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

এছাড়া অন্ধ্র প্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে ২ ও ৩ নভেম্বর অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে অন্ধ্র প্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ২ নভেম্বর বিকেল নাগাদ অন্ধ্র উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ এসময় ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। পরে সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার।

অন্যদিকে দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে। ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ৪ নভেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেদিন সকালে বাতাসের গতিবেগ কমে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে নতুন সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর সামান্য প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি