ঢাকা   ০৩:৪১:৩২ পিএম, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থাইল্যান্ড ভ্রমণে ১০ নিয়মের বেড়াজাল, হতে পারে জেল-জরিমানাও

Reporter Name
  • Update Time : Monday, November 2, 2026,
  • 3 Time View
  • ৪০ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

থাইল্যান্ড! দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। নীল সমুদ্রের মনোরম সৈকত, চোখ ধাঁধানো দ্বীপ, বৌদ্ধ মন্দির, বৈচিত্র্যময় খাবার আর প্রাণবন্ত রাতের জীবন, সব মিলিয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক ছুটে যান দেশটিতে। বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছেও থাইল্যান্ড বরাবরই আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য।

কিন্তু আপনি কি জানেন, থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়ে সামান্য কিছু ভুলের কারণেও বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন?

থাইল্যান্ডে থাকার অনুমতির তারিখ পার হয়ে যাওয়া, ব্যাগে নিষিদ্ধ ই-সিগারেট রাখা, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট ওষুধ বহন করা কিংবা মন্দিরে অনুপযুক্ত পোশাক পরা- এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে পর্যটকদের ধারণা খুবই কম।

অনেক সময় নিজের দেশে যে কাজটি একেবারেই স্বাভাবিক, থাইল্যান্ডে সেটিই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই থাইল্যান্ড ভ্রমণের আগে শুধু হোটেল, বিমান টিকিট কিংবা দর্শনীয় স্থানের তালিকা তৈরি করলেই চলবে না। জানতে হবে দেশটির আইন, অভিবাসননীতি এবং পর্যটকদের জন্য প্রযোজ্য গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধও।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, থাইল্যান্ডে ভ্রমণের আগে প্রত্যেক পর্যটকের যে ১০টি নিয়ম সম্পর্কে জানা জরুরি।

১. ভিসার মেয়াদ শেষ হলে থাকা যাবে না, এক দিনের ভুলেও বিপদ!

থাইল্যান্ডে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ভিসা এবং অবস্থানের অনুমোদিত সময়সীমা। অনেক পর্যটক ভিসার মেয়াদ ও দেশটিতে থাকার অনুমোদিত সময়কে একই বিষয় মনে করেন। এখানেই ঘটে বড় ভুল।

থাই অভিবাসন আইন অনুযায়ী, অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন দেশটিতে অবস্থান করাকে বলা হয় ‘ওভারস্টে’। এটি সাধারণ কোনো ভ্রমণসংক্রান্ত ভুল নয়; বরং গুরুতর অভিবাসন অপরাধ।

ভিসার মেয়াদ আর থাকার অনুমতি এক নয়

বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যাক।

ভিসার মেয়াদ (Visa Validity): যে সময়ের মধ্যে আপনি ভিসা ব্যবহার করে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবেন।
থাকার অনুমোদিত সময় (Permitted Length of Stay): থাইল্যান্ডে প্রবেশের পর কত দিন থাকতে পারবেন।
আপনার পাসপোর্টে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা যে তারিখ পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেবেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাসপোর্টে সাধারণত ‘এডমিটেড আনটিল বা অনুমোদিত সময়সীমা’ হিসেবে তারিখটি উল্লেখ থাকে।

ধরুন, আপনার ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু প্রতিবার প্রবেশের পর থাকার অনুমতি ১৮০ দিন। সে ক্ষেত্রে ১৮০ দিন শেষ হওয়ার পর অনুমতি ছাড়া আর এক দিন থাকলেও তা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য হতে পারে।

কত টাকা জরিমানা হতে পারে?

থাইল্যান্ডে অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সাধারণত প্রতিদিন ৫০০ থাই বাথ জরিমানা দিতে হয়। সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ২০ হাজার বাথ। তবে দীর্ঘ সময় অবৈধভাবে অবস্থান করলে শুধু জরিমানা দিয়েই পার পাওয়া যায় না।

স্বেচ্ছায় ইমিগ্রেশনের কাছে আত্মসমর্পণ করে দেশ ছাড়লে ওভারস্টের সময় অনুযায়ী পুনরায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

৯০ দিনের বেশি কিন্তু এক বছরের কম : ১ বছর নিষেধাজ্ঞা।
এক বছরের বেশি কিন্তু তিন বছরের কম : ৩ বছর নিষেধাজ্ঞা।
তিন বছরের বেশি কিন্তু পাঁচ বছরের কম : ৫ বছর নিষেধাজ্ঞা।
পাঁচ বছরের বেশি : ১০ বছর নিষেধাজ্ঞা।
অন্যদিকে, ওভারস্টে অবস্থায় দেশটির ভেতরে গ্রেপ্তার হলে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে। এক বছরের কম ওভারস্টের ক্ষেত্রেও পাঁচ বছরের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা এবং এক বছরের বেশি হলে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। এছাড়া আটক, আইনি প্রক্রিয়া ও নিজ খরচে দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিও রয়েছে।
কী করবেন?

থাইল্যান্ডে প্রবেশের পর পাসপোর্টের ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পের ছবি তুলে রাখুন।
মোবাইল ফোনে শেষ অনুমোদিত দিনের তারিখ সংরক্ষণ করুন।
মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত সাত দিন আগে রিমাইন্ডার সেট করুন।
থাকার সময় বাড়াতে চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবেদন করুন।
ওভারস্টে হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বা আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

মনে রাখবেন, এক বা দুই দিন বেশি থাকলেও সেটি বৈধ হয়ে যায় না।

২. থাইল্যান্ডে কী কী জিনিস নিয়ে যেতে পারবেন? কাস্টমসের নিয়ম জানুন

বিদেশ ভ্রমণে অনেকেই নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের জন্য উপহার, ইলেকট্রনিক পণ্য, সিগারেট কিংবা খাবার নিয়ে যান। কিন্তু থাইল্যান্ডের কাস্টমস বিভাগ এসব পণ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা ও বিধিনিষেধ অনুসরণ করে।

নিয়ম না জানলে বিমানবন্দরে পণ্য জব্দ, জরিমানা কিংবা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

শুল্কমুক্ত পণ্যের সীমা

মূল নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বা পেশাগত ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে একজন পর্যটক সর্বোচ্চ ২০ হাজার থাই বাথ মূল্যমানের পণ্য শুল্কমুক্তভাবে নিতে পারেন। তবে পণ্যটি নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হওয়া যাবে না। কিছু বিশেষ ধরনের প্রবেশ অনুমতিতে এই সীমা কম হতে পারে।

কতটুকু অ্যালকোহল ও সিগারেট নেওয়া যায়?

২০ বছরের বেশি বয়সী একজন যাত্রী সাধারণত সঙ্গে রাখতে পারেন-

সর্বোচ্চ ১ লিটার অ্যালকোহল।
সর্বোচ্চ ২০০টি সিগারেট অথবা ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত তামাক।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের মধ্যে এই সীমা একত্র করা যায় না।

ধরুন, আপনি তিনজন একসঙ্গে থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন। একজনের ব্যাগে যদি নিজের অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত সিগারেট থাকে, তাহলে অন্য দুজনের অনুমোদিত পরিমাণ দেখিয়ে সেটিকে বৈধ প্রমাণ করা যাবে না।

কত টাকা নগদ নিয়ে যেতে পারবেন?

বিদেশি মুদ্রার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি বহন করলে ঘোষণা দিতে হয়।
২০ হাজার মার্কিন ডলার বা তার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা থাকলে কাস্টমস ঘোষণা প্রয়োজন।
থাই বাথ নিয়ে দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে সাধারণ সীমা ৫০ হাজার বাথ।
প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে এই সীমা ৫ লাখ বাথ পর্যন্ত হতে পারে।
গ্রিন চ্যানেল নাকি রেড চ্যানেল?

থাইল্যান্ডের বিমানবন্দরে সাধারণত দুটি কাস্টমস চ্যানেল থাকে।

গ্রিন চ্যানেল: আপনার কাছে ঘোষণা করার মতো কোনো পণ্য না থাকলে এই পথ ব্যবহার করতে পারেন।

রেড চ্যানেল: অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত পণ্য, নিয়ন্ত্রিত ওষুধ, বাণিজ্যিক পণ্য কিংবা সন্দেহজনক বা নিষিদ্ধ পণ্য থাকলে এই পথে গিয়ে ঘোষণা করতে হবে।

সন্দেহ হলে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে ঝুঁকি না নিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করুন।

যেসব জিনিস বহনে সতর্ক থাকবেন

মাদকদ্রব্য।
ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং ডিভাইস।
অস্ত্র ও নিষিদ্ধ সরঞ্জাম।
নকল ব্র্যান্ডের পণ্য।
বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদজাত নিয়ন্ত্রিত পণ্য।
অনুমতি ছাড়া প্রাচীন সামগ্রী ও বুদ্ধমূর্তি।
বিশেষ করে বুদ্ধমূর্তি বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেশের বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। নির্দিষ্ট অংশ বা সম্পূর্ণ মূর্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।

ভ্রমণ টিপস: দামি মোবাইল, ল্যাপটপ বা ক্যামেরা নিয়ে গেলে কেনার রসিদ সঙ্গে রাখুন। অন্যের দেওয়া ব্যাগ বা প্যাকেট না বুঝে বহন করবেন না।

৩. প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নিয়েও বিপদে পড়তে পারেন!

অনেক পর্যটক নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করেন। কেউ ডায়াবেটিসের ওষুধ নেন, কেউ ব্যথানাশক, আবার কেউ ঘুম বা উদ্বেগজনিত সমস্যার জন্য চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বহন করেন।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, আপনার দেশে বৈধ কোনো ওষুধ থাইল্যান্ডেও বৈধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

থাইল্যান্ডে কিছু ওষুধ নিয়ন্ত্রিত মাদকদ্রব্য বা সাইকোট্রপিক পদার্থের তালিকায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এসব ওষুধ বহন করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সাধারণ ওষুধ বহনের নিয়ম

সাধারণ ব্যক্তিগত ব্যবহারের ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মেনে চলুন-

ওষুধ মূল প্যাকেটেই রাখুন।
চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখুন।
ওষুধের নাম ও সেবনের মাত্রা উল্লেখ থাকা উচিত।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ বহন করবেন না।
অন্য কারও জন্য ওষুধ বহন করবেন না।
কোন ওষুধে বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন?
কোডিন, ফেন্টানিল, মরফিন ও মেথাডোনের মতো কিছু ওষুধ থাইল্যান্ডে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
মূল নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নারকোটিকস শিডিউল ২ ওষুধ সর্বোচ্চ ৯০ দিনের সরবরাহ পর্যন্ত বহনের ক্ষেত্রে থাই এফডিএ-এর অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য ভ্রমণের অন্তত ১৫ দিন আগে আবেদন করার নির্দেশনা রয়েছে।

অন্যদিকে, আলপ্রাজোলাম, ডায়াজেপাম, জোলপিডেম, মিথাইলফেনিডেট ও ফেনটারমিন-এর মতো নির্দিষ্ট সাইকোট্রপিক ওষুধের ক্ষেত্রেও অবস্থানের সময় অনুযায়ী আলাদা নিয়ম রয়েছে।

৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থানের ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ বৈধ প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসকের সনদসহ বহন করা যায়। ৩১ থেকে ৯০ দিনের ক্ষেত্রে আগাম অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসকের সনদে কী থাকবে?

ইংরেজিতে প্রস্তুত করা চিকিৎসকের চিঠিতে থাকা উচিত-

১. রোগীর পূর্ণ নাম ও ঠিকানা, যা পাসপোর্টের সঙ্গে মিলবে।

২. কোন রোগের চিকিৎসায় ওষুধটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

৩. ওষুধের জেনেরিক ও ব্র্যান্ড নাম।

৪. ওষুধের মাত্রা ও সেবনের নিয়ম।

৫. মোট ওষুধের পরিমাণ।

৬. চিকিৎসকের নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নম্বর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে থাই এফডিএ-এর অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা আগে যাচাই করুন। অনুমতি প্রয়োজন হলে ভ্রমণের আগে সেটি সংগ্রহ করুন।

বিশেষ করে ঘুমের ওষুধ, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ওষুধ কিংবা শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ নিয়ে ভ্রমণের আগে নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

অফিশিয়াল তথ্য: https://en.fda.moph.go.th/

৪. পাসপোর্ট সব সময় সঙ্গে না রাখলেও পরিচয়পত্রের কপি রাখুন

বিদেশে ভ্রমণের সময় পাসপোর্টই আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে প্রয়োজনে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে পারে।

কিন্তু প্রতিদিন ঘোরাঘুরির সময় মূল পাসপোর্ট সঙ্গে রাখলে হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তাহলে কী করবেন?

সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় পাতার ভালো মানের ফটোকপি এবং ডিজিটাল কপি সঙ্গে রাখা।

কোথায় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হতে পারে?
হোটেলে চেক-ইন করার সময়।
পুলিশের নিয়মিত পরিচয় যাচাইয়ের সময়।
অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণে।
ট্রেন বা ফেরিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে।
গাড়ি বা মোটরসাইকেল ভাড়া নেওয়ার সময়।
হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে।
কোন কোন পাতার কপি রাখবেন?

পাসপোর্টের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্যসংবলিত পাতা।
থাইল্যান্ডে প্রবেশের সিল দেওয়া পাতা।
ভিসার পাতা, যদি প্রযোজ্য হয়।
টিএম৬ বা প্রযোজ্য আগমনসংক্রান্ত রেকর্ড।
হোটেলের ঠিকানা।
জরুরি যোগাযোগের নম্বর।
একটি প্রিন্ট করা কপি এবং মোবাইলে ডিজিটাল কপি রাখুন। সম্ভব হলে ক্লাউডেও ব্যাকআপ রাখবেন।

কখন মূল পাসপোর্ট প্রয়োজন?

বিমানবন্দরে যাতায়াত, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়া, ইমিগ্রেশন অফিসে যাওয়া, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা অন্যান্য সরকারি কাজে মূল পাসপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।

তাই পাসপোর্টটি নিরাপদ স্থানে রাখুন। হোটেলের সেফ ব্যবহার করতে পারেন, তবে প্রয়োজনের সময় যেন সহজে পাওয়া যায়।

৫. থাইল্যান্ডের রাজপরিবার নিয়ে মন্তব্য করার আগে সতর্ক থাকুন

থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু সামাজিক রীতিনীতি নয়, এ বিষয়ে রয়েছে কঠোর আইনও।

দেশটির রাজপরিবারকে অপমান, অবমাননা, হুমকি কিংবা অসম্মান করার মতো কর্মকাণ্ড গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

কী বলে থাইল্যান্ডের আইন?

থাইল্যান্ডের ফৌজদারি আইনের ১১২ ধারায় ‘লেসে-ম্যাজেস্টে’ বা রাজপরিবারের অবমাননাসংক্রান্ত অপরাধের বিধান রয়েছে।
এই আইনের আওতায় রাজা, রানি, উত্তরাধিকারী কিংবা রাজপ্রতিনিধিকে অপমান, মানহানি বা হুমকি দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য।
অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রতিটি অভিযোগে ৩ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
এই আইন বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সতর্ক থাকুন

অনেকেই মনে করেন, ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করলেই তা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু থাইল্যান্ডের রাজপরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, মন্তব্য, ছবি বা কনটেন্ট শেয়ার করাও আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই-

রাজপরিবার নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না।
আপত্তিকর ছবি, মিম বা ভিডিও শেয়ার করবেন না।
রাজপরিবারের প্রতিকৃতি নিয়ে অসম্মানজনক আচরণ করবেন না।
থাই মুদ্রা পায়ে মাড়াবেন না।
রাজপরিবার নিয়ে বিতর্কে জড়াবেন না।
থাইল্যান্ডে বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে জাতীয় ও রাজকীয় সংগীত বাজানো হয়। এ সময় স্থানীয়দের মতো শান্তভাবে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা প্রচলিত রীতি।

মনে রাখবেন: যে বিষয়ে আপনার পর্যাপ্ত ধারণা নেই, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

৬. মন্দিরে প্রবেশের আগে পোশাক ও আচরণের নিয়ম জানুন

থাইল্যান্ডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দেশটির অসংখ্য বৌদ্ধ মন্দির। ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেস থেকে শুরু করে ওয়াট ফ্রা কায়েও- প্রতিটি স্থাপনার রয়েছে নিজস্ব ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব।

তবে এগুলো শুধু ছবি তোলার জায়গা নয়। স্থানীয় মানুষের কাছে এসব পবিত্র ধর্মীয় স্থান। তাই মন্দিরে প্রবেশের সময় পোশাক ও আচরণের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

মন্দিরে কী ধরনের পোশাক পরবেন?

নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই শালীন পোশাক পরা উচিত।
কাঁধ ঢাকা পোশাক পরুন।
হাঁটু ঢাকা প্যান্ট বা স্কার্ট পরুন।
স্লিভলেস বা অতিরিক্ত খোলামেলা পোশাক এড়িয়ে চলুন।
স্বচ্ছ বা অতিরিক্ত আঁটসাঁট পোশাক পরবেন না।
প্রয়োজনে স্কার্ফ বা লম্বা কাপড় সঙ্গে রাখুন।
বিশেষ করে ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেস ও ওয়াট ফ্রা কায়েওতে পোশাকের নিয়ম কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়।

মন্দিরে কী আচরণ করবেন?

মন্দিরের ভেতরে প্রবেশের আগে জুতা খুলুন, যেখানে নিয়ম রয়েছে।
মাথার টুপি ও সানগ্লাস খুলে রাখুন।
উচ্চস্বরে কথা বলবেন না।
মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখুন।
বুদ্ধমূর্তির ওপর উঠবেন না বা অসম্মানজনক ভঙ্গিতে ছবি তুলবেন না।
বসার সময় পায়ের তলা বুদ্ধমূর্তি বা ভিক্ষুদের দিকে নির্দেশ করবেন না।
নারী পর্যটকদের ভিক্ষুদের সরাসরি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া শরীরে বুদ্ধমূর্তির দৃশ্যমান ট্যাটু থাকলে তা ঢেকে রাখাই ভালো।
কেন এত সতর্কতা?

থাই সমাজে বৌদ্ধধর্ম ও ধর্মীয় স্থাপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। পর্যটকদের অসতর্ক আচরণ স্থানীয়দের কাছে অসম্মানজনক মনে হতে পারে। কিছু আচরণের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

তাই মন্দিরে যাওয়ার আগে পোশাক নির্বাচন করুন। প্রয়োজনে হোটেল থেকেই উপযুক্ত পোশাক পরে বের হন।

৭. থাইল্যান্ডে অ্যালকোহল কেনার সময়সীমা ও পান করার নিয়ম

থাইল্যান্ডের অ্যালকোহলসংক্রান্ত আইন নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে প্রায়ই বিভ্রান্তি দেখা যায়। বিশেষ করে কখন দোকান থেকে অ্যালকোহল কেনা যাবে, কোথায় পান করা যাবে এবং কোন দিন বিক্রি নিষিদ্ধ, এসব বিষয় জানা জরুরি।

কখন অ্যালকোহল কেনা যায়?

২০২৬ সালের ২৯ মে থেকে কার্যকর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে সাধারণভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান, সুপারমার্কেট ও অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে সকাল ১১টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অ্যালকোহল বিক্রি করা যায়।
আগে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে শিথিল করার পর সেটি স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।
তবে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আলাদা বিধান রয়েছে। যেমন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা এলাকা, হোটেল এবং অনুমোদিত বিনোদনকেন্দ্র।
কোথায় অ্যালকোহল পান করা নিষিদ্ধ?

থাইল্যান্ডে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ও জনসাধারণের স্থানে অ্যালকোহল পান নিষিদ্ধ।

এর মধ্যে রয়েছে-

মন্দির ও ধর্মীয় স্থান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সরকারি অফিস।
পেট্রল পাম্প।
নির্দিষ্ট পাবলিক পার্ক।
ট্রেন, রেলস্টেশন ও অন্যান্য নিষিদ্ধ গণপরিবহন এলাকা।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ধর্মীয় দিবস এবং নির্বাচনের সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যালকোহল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে।

পর্যটকদের জন্য সতর্কতা

শুধু অনুমোদিত দোকান বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অ্যালকোহল কিনুন।
বয়স যাচাইয়ের জন্য পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
কোনো প্রতিষ্ঠানে বিক্রি বন্ধ করতে বলা হলে তা মেনে চলুন।
নিষিদ্ধ স্থানে পান করবেন না।
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাবেন না।
থাইল্যান্ডের অ্যালকোহল আইন নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দিনের সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।

৮. ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ

অনেক দেশে ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং পণ্য ব্যবহার বৈধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু থাইল্যান্ডে এ বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, থাইল্যান্ডে ই-সিগারেট শুধু প্রকাশ্যে ব্যবহার করাই সমস্যার বিষয় নয়; এগুলো আমদানি এবং বহনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

কোন কোন পণ্য নিষিদ্ধ?

ভ্যাপ পেন।
ডিসপোজেবল ই-সিগারেট।
ই-লিকুইড।
ভ্যাপিং পড ও কার্টিজ।
আইকিওএস-এর মতো হিটেড টোব্যাকো ডিভাইস।
ভ্যাপিংয়ের আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ।
থাই কাস্টমস ও ভোক্তা সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধানের আওতায় এসব পণ্য নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ পণ্য হিসেবে বিবেচিত।

কী ধরনের শাস্তি হতে পারে?

নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় শাস্তির বিধান থাকতে পারে।

পণ্যের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী জব্দ, আটক এবং আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন।

পর্যটকদের কী করা উচিত?

থাইল্যান্ডে যাওয়ার সময় ব্যাগে ভ্যাপিং ডিভাইস বা ই-সিগারেট রাখবেন না। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হলেও এগুলো সঙ্গে নেওয়া নিরাপদ নয়।
কোনো দোকানে প্রকাশ্যে ভ্যাপিং পণ্য বিক্রি হতে দেখলেও ধরে নেবেন না যে সেগুলো বৈধ।
সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত: থাইল্যান্ড ভ্রমণে যাওয়ার আগে ভ্যাপিং ডিভাইস, ই-সিগারেট ও সংশ্লিষ্ট পণ্য বাড়িতেই রেখে যান।
৯. থাইল্যান্ডে গাঁজা বৈধ? পর্যটকদের জন্য রয়েছে কঠোর নিয়ম

২০২২ সালে গাঁজাকে মাদকদ্রব্যের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থাইল্যান্ডকে অনেকেই গাঁজার অবাধ ব্যবহারের দেশ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেশটির নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।

২০২৫ সালে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর গাঁজার বিনোদনমূলক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে চিকিৎসাভিত্তিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, দোকানে গাঁজা বিক্রি হতে দেখলেই সেটি কেনা বা ব্যবহার করা বৈধ, এমন ধারণা ভুল।

চিকিৎসার প্রয়োজনে কীভাবে ব্যবহার করা যায়?

২০২৫ সালের ২৩ জুন থেকে গাঁজার ফুলকে নিয়ন্ত্রিত ভেষজ হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়।
বর্তমান ব্যবস্থায় চিকিৎসার প্রয়োজনে গাঁজা ব্যবহারের জন্য থাইল্যান্ডের অনুমোদিত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, পর্যটকদের ক্ষেত্রেও থাই লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া গাঁজা কেনা, বহন বা ব্যবহার করা উচিত নয়।
চিকিৎসার জন্য অনুমোদন থাকলেও সাধারণত ৩০ দিনের প্রয়োজনীয় সরবরাহের বেশি নেওয়া যায় না।
পর্যটকদের জন্য কোন কাজগুলো নিষিদ্ধ?

নিজের দেশ থেকে গাঁজা বা গাঁজাজাত পণ্য নিয়ে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করা।
থাইল্যান্ড থেকে অনুমতি ছাড়া গাঁজা অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া।
বৈধ চিকিৎসা অনুমতি ছাড়া গাঁজা কেনা বা বহন করা।
জনসমক্ষে গাঁজা সেবন করা।
আইন ভাঙলে কী হতে পারে?

জনসমক্ষে গাঁজা সেবন জনস্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার বাথ জরিমানা এবং তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্তে গাঁজা বহন করলে আরও গুরুতর মাদক পাচারের অভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মনে রাখবেন: থাইল্যান্ডে কোনো দোকানে গাঁজা বিক্রি হতে দেখলেও সেটি আপনার জন্য বৈধ—এমন নয়। পর্যটক হিসেবে এ ধরনের পণ্য থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

১০. থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে ধূমপান করলেই হতে পারে বড় জরিমানা

থাইল্যান্ডের সমুদ্রসৈকত বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ফুকেট, কোহ সামুই, পাতায়া, ক্রাবি কিংবা হুয়া হিন—প্রতিটি জায়গার সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

কিন্তু সৈকতে ঘুরতে গিয়ে সিগারেট খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি।

থাইল্যান্ডের বিভিন্ন জনপ্রিয় সৈকতে পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য ধূমপানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

কোন কোন সৈকতে ধূমপান নিষিদ্ধ?

বিভিন্ন জনপ্রিয় সৈকতের মধ্যে রয়েছে-

ফুকেট: পাটং, কাটা ও কারন।
কোহ সামুই: চাওয়েং ও বোফুট।
পাতায়া: পাতায়া বিচ ও জোমতিয়েন।
হুয়া হিন: হুয়া হিন বিচ।
ক্রাবি ও ফাং নাগা: কোহ লান্তা, কোহ ফি ফি ও খাই নক।
এসব এলাকায় সৈকতের বালু, তীরবর্তী স্থান ও নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ অঞ্চলে ধূমপান করা যাবে না।

কোথায় ধূমপান করা যাবে?

নির্দিষ্ট কিছু সৈকতে সমুদ্রসৈকত থেকে দূরে আলাদা ধূমপান অঞ্চল রাখা হয়েছে।
সেখানে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলার জন্য বিশেষ ডাস্টবিনও থাকতে পারে।
তাই সৈকতে যাওয়ার পর স্থানীয় সাইনবোর্ড ও নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আইন ভাঙলে কত জরিমানা?

সৈকতে ধূমপান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ বাথ জরিমানা, এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সৈকতে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করলেও শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।
পর্যটকদের জন্য পরামর্শ

সৈকতে প্রবেশের আগে ধূমপানসংক্রান্ত নির্দেশনা দেখুন।
নির্ধারিত স্থান ছাড়া ধূমপান করবেন না।
বালুর মধ্যে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলবেন না।
পার্ক, মন্দির, গণপরিবহন ও নিষিদ্ধ স্থানে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
ভ্যাপিংকেও বৈধ বিকল্প মনে করবেন না।
থাইল্যান্ড ভ্রমণের আগে শেষ মুহূর্তের চেকলিস্ট

আপনার ভ্রমণকে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত রাখতে নিচের বিষয়গুলো একবার মিলিয়ে নিন।

১. পাসপোর্টের মেয়াদ ও ভিসার শর্ত যাচাই করেছেন?

২. থাইল্যান্ডে থাকার শেষ অনুমোদিত তারিখ জেনে নিয়েছেন?

৩. প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন ও অনুমতি সঙ্গে রেখেছেন?

৪. কাস্টমসের পণ্য ও নগদ অর্থ বহনের সীমা জেনেছেন?

৫. পাসপোর্টের ফটোকপি ও ডিজিটাল ব্যাকআপ রেখেছেন?

৬. মন্দিরে যাওয়ার উপযোগী পোশাক প্রস্তুত করেছেন?

৭. নিষিদ্ধ ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং পণ্য ব্যাগ থেকে সরিয়েছেন?

৮. গাঁজাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন?

৯. অ্যালকোহল কেনা ও পান করার নিয়ম জেনেছেন?

১০. সৈকত ও জনসমাগমস্থলে ধূমপানের বিধিনিষেধ সম্পর্কে জেনেছেন?

থাইল্যান্ড ভ্রমণ মানেই নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন সংস্কৃতি, সুন্দর প্রকৃতি আর অসাধারণ কিছু স্মৃতি। কিন্তু বিদেশে ভ্রমণের সময় নিজের দেশের নিয়ম নয়, যে দেশে যাচ্ছেন সেই দেশের আইন মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক পর্যটক অজান্তে নিয়ম ভেঙে ফেলেন। কখনো ভিসার তারিখ ভুল করেন, কখনো নিষিদ্ধ পণ্য সঙ্গে নিয়ে যান, আবার কখনো স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে না জানার কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।

তাই ভ্রমণের আগে কিছুটা সময় নিয়ে দেশটির আইন ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে জেনে নিন। এতে যেমন অপ্রত্যাশিত জরিমানা বা আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব, তেমনি আপনার ভ্রমণও হবে আরও স্বস্তিদায়ক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি