ঢাকা   ০৯:৪৬:৫৯ পিএম, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকারের দিন: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Friday, November 6, 2026,
  • 1 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ।’ তাই সারাক্ষণ ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ঐতিহাসিক ভুল।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

তারেক রহমানের ভাষ্য, ইতিহাসের দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে মহাজোটের নামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

১৯৭১, ১৯৭৫ ও ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে এবারের ৭ নভেম্বরকে জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকারের দিন হিসেবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক এবং ভৌগোলিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন।

বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা নতুন করে ধারণ করতে হবে।

এ সময় তিনি বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়।

বার্তার শেষে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি