ঢাকা   ০৯:৫৬:২৭ এএম, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মগবাজার বিস্ফোরণে: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 1, 2021,
  • 201 Time View
  • ৮ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

০১ জুলাই ২০২১, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

ঢাকার মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় মোহাম্মদ নুর নবী (৩০) ও মো. রাসেল (২১) নামে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা।

নিহত মোহাম্মদ নুর নবী (৩০) পেশায় ভ্যান চালক ছিলেন।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে মগবাজার ওয়্যারলেস গেইট এলাকা কেঁপে ওঠে। তাতে আউটার সার্কুলার রোডের ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের তিনতলা রাখি নীড়ের ধসে পড়ার দশা হয়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় রাস্তার উল্টো দিকে আড়ং, বিশাল সেন্টার, নজরুল শিক্ষালয়, রাশমনো হাসনপাতালসহ আশপাশের ডজনখানেক ভবনের কাচ ভেঙে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তায় থাকা তিনটি বাস ও যাত্রীরা। ওই ঘটনায় আহত হন চার শতাধিক, তাদের বেশিরভাগই সে সময় রাস্তায় বা আশপাশের ভবনে ছিলেন। তাদের অধিকাংশই বিস্ফোরণের ধাক্কায় ছিটকে যাওয়া কাচে আহত হন।

আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ নুর নবীর শরীরের ৯০ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায়। তিনি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বৃহস্পতিবার আনুমানিক ভোর ৪ টা ৩০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদ নুর নবী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ শঙ্কর পাল।

নুরুন্নবী রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাজপুর গ্রামের ইসলাম মণ্ডলের ছেলে। ঢাকায় এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল এলাকার একটি মেসে তিনি থাকতেন। আবদুল্লাহ নামের ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে তার।

নুরুন্নবীর স্ত্রী পপি বেগম জানান, ভ্যান চালিয়ে বাড্ডা থেকে ফেরার পথেই মগবাজারে বিস্ফোরণের মধ্যে পড়েন তার স্বামী।

এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া দুইটায় আইসিইউতে মো. রাসেল (২১) মারা যায়। শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডাক্তার পার্থ শংকর পাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় রাসেলের শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

রাসেলের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বরুয়াল গ্রামে। তার বাবার নাম জসীমউদ্দীন। রাসেল বেঙ্গল মিট এর সেলসম্যান ছিলেন। সপরিবারে তিনি মগবাজার আড়ং-এর সাথেই থাকতেন।

রাসেলের চাচা বজলুর রহমান জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের একটি সরকারি কলেজে রাসেল স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাসেলের বাবা জসীমউদ্দীন পেশায় সে একজন কৃষক। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়।

তিনি জানান, রাসেলের কলেজ বন্ধ থাকায় তিনি বসে না থেকে নিজে উপার্জনের আশায় ছয় মাস আগে ঢাকায় আসেন। বিস্ফোরণের পাঁচ দিন আগে বেঙ্গল মিটে চাকরি নেন।

ফায়ার সার্ভিস বলেছে, তিনতলা ওই ভবনে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে। তবে কেন, কীভাবে ওই বিস্ফোরণ ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু কেউ বলেননি।

বিস্ফোরণের পর সেই রাতেই মোট সাতজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। পরদিন তাদের লাশ হস্তান্তর করা হয় পরিবারের কাছে।

সেই সাতজন হলেন- কলেজ শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (২৬), প্রাইভেটকারচালক স্বপন (৩৯), বাসচালক আবুল কাশেম মোল্লা (৪৫), বেসরকারি চাকরিজীবী রুহুল আমিন (৩০), ভবনের নিচতলায় থাকা শরমা হাউজের পাচক ওসমান গনি তুষার (৩৫), সেখানে খেতে যাওয়া জান্নাত বেগম (২৩) এবং তার নয় মাসের মেয়ে সোবহানা।

বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন আংশিক ধসে পড়া রাখি নীড়ের তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশিদ হাওলাদার। মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

এর আগের দিন মগবাজারে অবহেলার কারণে বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, উপপরিদর্শক রেজাউল করিম রমনা থানায় এই মামলা করেন।

বিস্ফোরণের পরের দিন সোমবার পুলিশ প্রধানের নির্দেশে বিস্ফোরণ তদন্তের জন্য একটি সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে পুলিশ। এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।

এছাড়া বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি