• বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ঈদে শুভেচ্ছার মধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা

বিপ্লব সিকদার / ৬৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতাদের তৎপরতা এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের আড়ালে স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রস্তুতি, গণসংযোগ এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি ইউনিয়নে নেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মসজিদ প্রাঙ্গণ, ঈদগাহ, বাজার, গ্রামীণ রাস্তার মোড়—সবখানেই দেখা গেছে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের সরব উপস্থিতি। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, করমর্দন, এমনকি ছবি তোলার মধ্য দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তারা।বিশেষ করে চা-চক্র, পথসভা-সদৃশ অনানুষ্ঠানিক আড্ডা এবং ছোট ছোট সামাজিক অনুষ্ঠানে নেতাদের সক্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনীতে উপস্থিত হয়ে নেতারা নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে তারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আভাসও দিয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে একই দিনে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী একই এলাকায় গিয়ে আলাদা আলাদা গণসংযোগ করেছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।স্থানীয়রা বলছেন, “ঈদ তো আনন্দের সময়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটা রাজনৈতিক প্রচারণার মৌসুমও হয়ে গেছে।” তাদের মতে, নেতারা ঈদের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদিকে জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন, অন্যদিকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছেন।এদিকে, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় ব্যানার ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে কর্মসূচি পালন করলেও, অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। একই দলের ভেতরে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর আলাদা আলাদা শোডাউন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই অবস্থান শক্ত করতে চান সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ঈদের মতো বড় সামাজিক উৎসবকে তারা তাই রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। এতে একদিকে যেমন নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা নতুন নয়, তবে এবার এর মাত্রা কিছুটা বেশি। আগে ঈদে শুধুই শুভেচ্ছা বিনিময় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা অনেকটাই নির্বাচনী কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোও এখন রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
সব মিলিয়ে মেঘনায় এবারের ঈদ উৎসব যেন ‘রথ দেখা ও কলা বিক্রি’—এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশলেই পরিণত হয়েছে। আনন্দের উৎসবের পাশাপাশি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও সমানতালে চলছে। এতে করে ঈদের আমেজ যেমন রয়েছে, তেমনি আগাম নির্বাচনী উত্তাপও ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায়।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন