চলতি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শতভাগ নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।বুধবার কুমিল্লার দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ড. মারুফ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
অতীতে বিএনপি সরকার ২০০১-০৬ মেয়াদে পাবলিক পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা দূর করে গুণগত পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা, জাতীয় কারিকুলাম পুনর্বিবেচনা, ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি চালু এবং ‘আইটেম ব্যাংক’ভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি বিভাগে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং উচ্চশিক্ষায় গবেষণায় বিশেষ অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান ড. মারুফ। এছাড়া কোচিং সেন্টার ধাপে ধাপে বন্ধ করা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ সুবিধা এবং উচ্চশিক্ষায় বিশেষ সহায়তা প্রদানের বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর এবং পুরুষদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
ড. মারুফ বলেন, “যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত ও মেধাবী, সে জাতি তত উন্নত।” তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষাঙ্গনে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে এবং পাশের হার বাড়ানোর নামে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন। দাউদকান্দি ও তিতাস এলাকায় পৌরসভা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন সাধনের দাবি করেন তিনি।এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য আন্তরিক প্রস্তুতির বিকল্প নেই। আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দিতে হলে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং পরিবার ও দেশের সুনাম অর্জন করতে হবে।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মো. জসিমউদ্দিন, অভিভাবক সদস্য মো. বিল্লাল মিয়াজি, শিক্ষানুরাগী নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, কাউসার আলম সরকার, কামাল হোসেন, শরীফ চৌধুরী ও মো. রোমান খন্দকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।