টানা অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। নিম্নাঞ্চল ও বিভিন্ন ইউনিয়নে জনদুর্ভোগ কমাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. ফয়েজ উদ্দিন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনার পরপরই উপজেলার সব ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়। এতে ড্রেন ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা, প্রয়োজনীয় স্থানে পাম্প বসিয়ে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং জলাবদ্ধতার কারণগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠে নেমে কাজ শুরু করেন। তাঁরা স্বেচ্ছাসেবক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে জলাবদ্ধ এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার, নালা-নর্দমার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যেসব এলাকায় পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে রয়েছে, সেসব স্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কোথাও পানি জমে থাকার খবর পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কোনো এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নালা-নর্দমা, ড্রেন ও খালের মুখে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই দ্রুত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং বৃষ্টির পানি নেমে গিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।