ঢাকা   ০৯:৫৯:২২ পিএম, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনে আসছে ২০০ ইভি বাস, নারীদের জন্য ১০০ বাস

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, August 18, 2026,
  • 52 Time View
  • ১০ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব বাস চালুর মাধ্যমে একদিকে যেমন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) আয়োজনে ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

অনুষ্ঠানে সড়কমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রচলিত প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের অনুমোদন, টেন্ডার এবং আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দেড় বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন দ্রুত চালুর লক্ষ্যেই সরকার সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এসব বাস চালুর মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহনের সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বাসের সংখ্যা এবং রুটের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

১৩ রুটে ১৪ বাস দিয়ে শুরু

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মোট ১৩টি রুটে ১৪টি নতুন বাস চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামের দুটি রুটে দুটি বাস এবং বগুড়ার দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চলাচল করবে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব সেবার পরিধি বাড়ানো হবে। যাত্রীদের চাহিদা, রুটের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন রুটে বাস যুক্ত করা হবে।

ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

শেখ রবিউল আলম বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার অংশ হিসেবেও ইভি বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, আধুনিক ও টেকসই নগর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু বাসের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; একই সঙ্গে পরিবেশ, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার মান নিশ্চিত করতে হবে।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে

নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে সড়কমন্ত্রী বলেন, নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা শুধু বাসে ওঠার পর নিশ্চিত করলেই হবে না। বাসের জন্য অপেক্ষার সময় এবং গন্তব্যে পৌঁছে বাস থেকে নামার সময়ও তাদের নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে নারীরা গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহ হারাতে পারেন। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ, অর্থনীতি ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে নিজেদের সক্ষমতা দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেন, সে জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বিআরটিসির সেবায় পরিবর্তনের তাগিদ

বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন সড়কমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে বিআরটিসি ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং সংস্থাটির মোট বাসের সংখ্যা এক হাজার ২০০-এর কাছাকাছি বা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই; বরং প্রতিষ্ঠানটি ব্রেক-ইভেন অবস্থানে রয়েছে।

তবে শুধু লোকসান না থাকাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিআরটিসির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন এবং যাত্রীসেবার মানে আরও পরিবর্তন আনতে হবে। যাত্রীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের কার্যক্রমে উন্নতি আনতে হবে।

‘পিংক বাস’ সেবা টেকসই করার আহ্বান

নারীদের জন্য চালু হওয়া ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ যেন অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও উন্নত করতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে সেবাকে আরও নিরাপদ, নিয়মিত ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই এই উদ্যোগকে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এই সেবাকে ধরে রাখা, টেকসই করা, আরও সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি