• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
ই-নামজারি চালুর পরও ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না: এমপি সুলতানা মেয়াদপূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে কমবে মুনাফা, টিআইএন না থাকলে বাড়বে কর ২৯ দিনে দেশে এলো ৩২ হাজার ৮২৮ কোটি টাকার রেমিট্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১২০৮ কোটি টাকা: ভূমিমন্ত্রী মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সরকার উদার থাকবে: তথ্য উপদেষ্টা আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ ঢাকায় স্বীকৃতি থেকে বাদ পড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তালিকাভুক্ত হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ ঘরে বসেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তঃজেলা সিরিয়াল কিলার গ্রেপ্তার: আইজিপির পুরস্কার পেলেন নওগাঁর এসপি

সাংবাদিক মুকুল হত্যাকাণ্ডের আসামিরা আজও অধরা

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

কাজী মোস্তাফিজ:

যশোরের আলোচিত দৈনিক রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য দীর্ঘ ২৮ বছরেও উন্মোচিত হলো না। গত ১৬ বছর ধরে উচ্চ আদালতে আইনের জালে বন্দি হয়ে আছে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের কার্যক্রম। ফলে মুকুল হত্যাকাণ্ডের আসামিরা আইনের ঘেরাটোপে রয়ে গেছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

আইনজীবীরা বলছেন, যে রিটের কারণে উচ্চ আদালতে মামলাটি আটকে আছে, তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতে বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব নয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ২৮ বছর অতিবাহিত হলেও কোনো বিচার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ সাইফুল আলম মুকুলের পরিবার ও যশোরের সাংবাদিক সমাজ। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে আজ ৩০ আগস্ট বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়াত সাংবাদিক মুকুলের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল শহর থেকে বেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে চারখাম্বার মোড়ে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন। পরদিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন কারও নাম উল্লেখ না করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি দুলাল উদ্দিন আকন্দ ১৯৯৯ সালের ২৩ এপ্রিল সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। একপর্যায়ে আইনি জটিলতার কারণে মামলার কার্যক্রম থমকে পড়ে। আর এ কারণে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি হাইকোর্ট থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ থেকে মুকুল হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে বর্ধিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর সিআইডি কর্মকর্তা মওলা বক্স নতুন দুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দেন। ২০০৬ সালের ১৫ জুন যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে মুকুল হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এ সময় মামলা থেকে তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও রূপম নামে আরেক আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১০ সালে মামলার ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে।

আদালত সূত্র জানায়, এ সময় মুকুল হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আসামি সাংবাদিক ফারাজী আজমল হোসেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদন করেন। তিনি উচ্চ আদালতে যাওয়ায় ফের মুকুল হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। গত ১৬ বছর ধরেই মামলাটির কার্যক্রম ওই অবস্থায় রয়েছে। পরে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে ফারাজী আজমল হোসেনের অংশ বাদ রেখে ফের বিচার কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত তা কার্যকর হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, নিম্ন আদালতে মুকুল হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু হাইকোর্টে এক আসামির আবেদনের কারণে মামলাটির আর্গুমেন্ট শুরু করা সম্ভব হয়নি। হাইকোর্টে আবেদনের নিষ্পত্তির পর সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।

এ অবস্থায় রোববার (৩০ আগস্ট) পালিত হচ্ছে শহীদ সাংবাদিক সাইফুল আলম মুকুলের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে প্রেসক্লাব, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোকর‌্যালি, শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিল।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন