ঢাকা   ১০:২৭:৫২ পিএম, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিক রুশ সেনাবাহিনীতে : জাতিসংঘ

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, October 27, 2026,
  • 8 Time View
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার ও সামরিক চুক্তিতে জোর করে সই করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন।

প্রতিবেদনের প্রথম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে। রুশ বাহিনী দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিতরণ নেটওয়ার্ক, সাবস্টেশন এবং গ্যাস স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।

পাশাপাশি ২৯টি দেশের নাগরিকদের মিথ্যা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী ও বিভিন্ন দেশের রিক্রুটমেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতারণা ও বলপ্রয়োগ করে বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে ভেড়ানো হয়েছে, যা মানবপাচার ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট উদাহরণ।

কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করে। এর মধ্যে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রতারণা ও জোরজুলুমের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, জর্ডান, আজারবাইজান, বেলারুশ, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বোতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদোর, ঘানা, হন্ডুরাস, ভারত, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, টিউনিশিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের সকলেই ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ। তারা মূলত আর্থ-সামাজিক দিক থেকে অনগ্রসর পরিবেশ বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে আসা। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব এবং তীব্র আর্থিক সংকটে থাকা এই মানুষদেরই প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানায় রিক্রুটমেন্ট নেটওয়ার্কগুলো।

তবে তালিকায় জর্ডানের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, সে দেশের নাগরিকদেরও প্রতারণা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে রুশ বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যারা জেনেশুনে ও স্বেচ্ছায় রাশিয়া বা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, তাদের এই তদন্তের বাইরে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যে সব অবৈধ উপায়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, প্রতিবেদনটিতে কেবল সেগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি