• সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টক্সিক মানসিকতার বিস্তার: সামাজিক সম্প্রীতির নীরব সংকট সিলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত সিসিকের এলইডি স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল: দর্শক উপস্থিতিতে উৎসবমুখর নগরভবন ‘এটিএম তুরাব স্মৃতি পদক’ পেলেন সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল কাদের তাপাদার মহীয়সীর আয়োজনে ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মরণ সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত ডেমরার খাল পরিস্কার – পুনরুদ্ধার এখনই সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যা-পরবর্তী মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সফর সফল ও সার্থকভাবে সম্পন্ন হয়েছে পদ্মা ওআড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এমপি শহিদুল বল্লী ইউনিয়নে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের করে দোকান ভাঙ্গচুরের অভিযোগ

কৃষকের কান্না : দুই মন ধানের দামে ১ কেজি গরুর মাংস।

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ২৫৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯

২৬ মে ২০১৯, বিন্দুবাংলা টিভি .কম,  ঠাকুরগাঁও :

ঠাকুরগাঁও  বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা চরমভাবে হতাশ। ২ মণ ধান বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে না ১ কেজি গরুর মাংস।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৬০ হেক্টর আর অর্জিত হয়েছে ৬২ হাজার ৩৫০ হেক্টর।

কৃষি বিভাগ বলছে, উৎপাদন গত বছরের তুলনায় এবার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে চাল উৎপাদন হয়েছিল ৩.৮ টন আর এবার বৃদ্ধি পেয়ে ৪ টন হচ্ছে।

দাম কম থাকার কারণে অধিকাংশ কৃষক গত বছর ধান বিক্রি করেনি। তাই এসব কৃষকরা সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলার চন্দরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, আমি এ বছর ২৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। প্রায় ১২শত মণ ধান আমার উৎপাদন হয়েছে। আমার পরিবারে বছরে ৪০ মণ ধান খাবার জন্য প্রয়োজন হয়।

বাকি ধান আমি বিক্রি করব। বর্তমানে বাজারে ৬ শত টাকা করে বস্তা মোটা ধান বিক্রি হয়। আমার প্রতি বস্তা ধান উৎপাদন করতে ৬ শত থেকে ৭ শত টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে যে দাম আছে সেই দামে ধান বিক্রি করলে প্রতিমণ ধানে দেড় থেকে ২ শত টাকা লস হবে।

পীরগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্টপুর (তাজপুর)গ্রামের জবাইদুর রহমান বলেন, শনিবার কাতিহার বাজারে গিয়ে ৬শত টাকা বস্তা মোটা ধান বিক্রি করেছি। বাড়িতে মেহমান থাকায় গরুর মাংস কিনতে হয়েছে ৬০০ টাকা করে। এখানে বস্তা ধান বিক্রি করলে ১ কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। শুনেছি সরকার ১০৪০ টাকা করে ধান ক্রয় করবে। এই দামে ধান বিক্রি করতে পারলে আমরা লাভবান হব।

৮নং দৌলতপুর ইউনিয়নের আঃলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ব্যক্তিজীবনে আমিও একজন কৃষক। আমি মনে করি আগামীতে কৃষকরা যদি রপ্তানিমুখী ধান চাষ করে তাহলে তারা অনেকটাই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। এ জন্য সরকারকে রপ্তানিমুখী ধান চাষে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন বলেন, ধান উৎপাদনের জন্য সব উপাদন সময় মতো পাওয়ায় ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষিদের ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমান বাজারে ধানের যে দাম তাতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে পরে লাভবান হতে পারে।

তবে ধানের দাম বৃদ্ধির দাবিতে শনিবার দুপুরে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার প্রিয়াঙ্কা হোটেলের সামনে ও ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের খোঁচাবাড়ি এলাকায় ধান ছিটিয়ে এ বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। এ সময় ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ঠাকুরগাঁও সদর থানা সিপিবির সভাপতি আহসানুল হাবিব বাবু, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু, কৃষক সমিতির নেতা এরশাদুল ও সাইফুল প্রমুখ।

সমাবেশে কৃষকেরা বলেন, বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের হাট-বাজারগুলোতে প্রতি মণ ধান ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা। এভাবে ধানের দাম প্রতিবার কম পাওয়ায় আমরা লোকসানে পড়ি। বর্তমানে ৮ টাকা কেজি দরে ৩২০০ টাকা ধানের মণ বিক্রি করতে হয় আমাদের। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর ধান চাষ করব না। এ সময় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধানের বিক্রয় মূল্য উৎপাদন খরচের থেকে কম হওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক সঙ্কট ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান একাধিক কৃষক জানান। সোর্স –  পিবিডি


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন