February 25, 2024, 4:55 am

​পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সংঘর্ষে চীনা নাগরিক নিহত

১৯ জুন ২০১৯, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্ট :

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাঙালি শ্রমিকের লাশ গুমের গুজবকে কেন্দ্র করে চীনা ও বাঙালি শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে এক চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ শ্রমিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে হামলা, ভাঙচুরসহ ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

মঙ্গলবার দিনের শেষে সংঘটিত সংঘর্ষে ৬ জন চীনা নাগরিক সহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।  তাদের মধ্যে ৬ চীনা ও ২ জন বাঙালিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিউ সি (৪৫) নামে এক চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়।

আহত চীনা নাগরিকরা হলেন শু গ্যাং (৫৪), মু জাং হুয়া (৩৫), হাং শেং (৬০), জাং ইউন সেং (২৬), লিনলু (৫২)। মাথায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে লিউ সিথর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন। বাকি পাঁচ চীনা নাগরিককে আজ বুধবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পায়রা তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন বাঙালি শ্রমিক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে নির্মাণাধীন বয়লার থেকে বেল্ট ছিড়ে নিচে পড়ে মৃত্যু হয় বাঙালি শ্রমিক সাবিন্দ্র দাস (৩২) এর। সে সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার জয়নগর গ্রামের নগেন্দ্র দাস এর ছেলে। গত ১৪ মে থেকে ধরে সে কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের ‘কাজল এন্টারপ্রাইজথ নামক প্রতিষ্ঠানের অধীনে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করে আসছিলো বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী মো. কাজল মৃধা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শ্রমিকের মৃত্যুর পরে চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে তার লাশ গুমের গুজব ছড়ানো হয়। এতে বাঙালি শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়। এক পর্যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত প্রায় ছয় হাজার বাঙালি শ্রমিক এক হয়ে তিন সহস্রাধিক চায়নিজ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিসিপিসিএল কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

খবর পেয়ে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়োজিত পুলিশ, কলাপাড়া থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে শেষ বিকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তার মধ্যেই বাঙালি শ্রমিকরা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে ব্যাপক ভাংচুর করে। চায়নিজ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিরোধের জন্য এগিয়ে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

বিসিপিসিএল এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহমনি জিকো জানান, ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গুজবের কারণে উত্তেজিত হয়ে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে চায়নিজদের ক্যান্টিন, অফিস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ও ওয়েল্ডারে হামলা-ভাংচুর চালায়। তাতে বাধা দিতে গেলে চায়নিজদের ওপরে হামলা চালিয়ে তাদের আহত করে।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে হামলায় বেশ কয়েকজন চায়নিজ নাগরিকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের প্রথমে পটুয়াখালী এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া নিহত শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হেমায়েত উদ্দিন বলেন, সবাই যেভাবে শুনছে আমিও সেভাবেই শুনছি। এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চায়নিজদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এতে ৬ জন চীনা নাগরিক আহত হয়েছে। তাদের রাত আড়াইটার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যার মধ্যে সকালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দুথজন বাঙালি শ্রমিক আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।jagron

 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন


ফেসবুকে আমরা