- ৩ জুলাই ২০১৯, বিন্দুবাংলা টিভি. কম,
রোগ নির্ণয়ে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রয়োজন না হলেও ডা. শিহাব রোগীর প্রয়োজনের বাইরে বেশ কয়েকটি প্যাথলজি পরীক্ষা দেন।তিনি প্যাডে লিখে দেন তার পছন্দের রোগ নির্ণয় কেন্দ্র গুলির নাম।রোগী তার নির্দেশিত রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে না গেলে তিনি পরীক্ষার কাগজ ছুড়ে ফেলে দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তবোগী একাধীক রোগী।অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোঃশিহাব উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ছাগলনাইয়া উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাগজে কলমে থাকা ডাক্তারদের মধ্যে থেকে একজন ডাক্তার তিন দিনের ছুটি নিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।এ ছাড়া ২ জন ডাক্তার ডেপুটেশনে ফেনী সদর হাসপাতালে ডিউটি করলেও বেতন-ভাতা তুলছেন ছাগলনাইয়া থেকে।অপর একজন ডাক্তার ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল হক জানান,প্রধান উপসহকারী পরিবার পরিকল্পনা পদটি খালি,তার স্থলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডা.তাসলিমা আক্তার। ভুক্তভোগীরা জানান,বেলা ১১টায়ও কর্মস্থলে আসেন না তিনি।বর্তমানে হাসপাতালটটিতে শূন্য রয়েছে চক্ষু, ডেন্টাল,চর্ম ও যৌন,অর্থোপেডিক,ইএনটি,সহকারী সার্জন প্যাথলজি,সহকারী সার্জন এএমসি ও অ্যানেসথেটিস্টের পদ।হাসপাতালের আয়োতাধীন শূন্য রয়েছে শুভপুর,ঘোপাল ইউনিয়ন সাব-সেন্টারের মেডিকেল অফিসার,মহামায়া, ছাগলনাইয়া,রাধানগর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের সহকারী সার্জন/এমও পদ।৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পদ ২৫টির মধ্যে খালি রয়েছে ১৫টি।
হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত নার্সদের বিরুদ্ধে ও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ,১৯ জন নার্স থাকার পরও ভর্তিকৃত রোগীরা ঠিকমত সেবা পান না।নার্সরা তাদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে আসেনা বলে,আয়া বা ঝাড়ূদাররা রোগীদেরকে স্যালাইন খুলে দেন বা লাগিয়ে দেন।
নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করা ছাগলনাইয়া হাসপাতালে কর্মরত আরেক ক্ষমতাধর কর্মচারীর নাম হলো মোহাম্মদ উল্যা।হাসপাতালে তার নিয়োগ টিকা দানকারী পদে হলেও সে দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ হাসপাতাল কক্ষে বসে প্রকাশ্যে বিক্রি করে যাচ্ছে হারবাল কোম্পানির বিভিন্ন ঔষধ।সপ্তাহে দুই দিন হাসপাতালে টিকা নিতে আসা গর্ভবতী মা,শিশু ও উঠতি বয়সী তরুনিদের কাছেই হারবাল কোম্পানির যৌন উত্তেজক এবং মোটাতাজা করণ এইসব ঔষধ বিক্রি করেন মোহাম্মদ উল্যা।সরকারী হাসপাতালের কর্মচারী মোহাম্মদ উল্যা’র নিয়মবহির্ভূত প্রকাশ্যে হারবাল কোম্পানির ঔষধ বিক্রির বিষয়টি তুলেধরে,স্থানীয় সাংবাদিকরা একাধীকবার পত্র পত্রিকায় লিখলেও তদারকী ও জবাবদিহিতা না থাকায় অদ্যাবধী হাসপাতাল কক্ষে বসেই প্রকাশ্যে বহালতবিয়তে ব্যবসাটি চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাধর এই মোহাম্মদ উল্যা।
ছাগলনাইয়া হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংবলিত অপারেশন থিয়েটার থাকলেও শুরু থেকে এটির তালা খোলা হয়নি আজ পর্যন্ত।জরুরি বিভাগে কাটাছেঁড়া রোগী এলে চিকিৎসা সম্ভব নয় বলে তাদের ফেনী বা চট্টগ্রামে রেফার করার অভিযোগ ও রয়েছে পাসপাতালটির ডাক্তারদের বিরুদ্ধে।জরুরি বিভাগের কক্ষটির আয়তনে ছোট হওয়ায় একের অধিক রোগী এলে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।হাসপাতালকে ঘিরে আশেপাশে গড়ে উঠেছে একাধিক ক্লিনিক।
হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ফেনী জেলা সিভিল সার্জন ডা.নিয়াতুজ্জামানকে অবগত করলে,তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ডা.শিহাবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে এক্সরে,আলট্টাসহ রোগ নির্ণয়ের মেশিনগুলো সচল করার কথা ও জানান তিনি।