ঢাকা   ০৫:৫০:৫৩ এএম, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের মাধ্যমে এলাকায় ন্যায় ও শান্তি স্থাপন করতে হবে : উপসচিব মোহাম্মদ শওকত ওসামান

Reporter Name
  • Update Time : Monday, November 18, 2019,
  • 337 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

১৮ নভেম্বর ২০১৯, বিন্দুবাংলা টিভি. কম,

বিশেষ প্রতিবেদক: আজ ১৮ নভেম্বর ২০১৯ সকালে মতলব-উত্তর উপজেলা সম্মেলন কক্ষে শুরু হল দুই দিনব্যাপী গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ। নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা হকের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী-পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মোহাম্মদ শওকত ওসমান। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক রজত শুভ্র সরকার, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর (ডিএফ) নিকোলাস বিশ্বাস এবং প্রকল্পের সহযোগী সংস্থার উপজেলা সমন্বয়কারী সগীর আহম্মেদ সরকার। এ সময় নারায়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপসচিব মোহাম্মদ শওকত ওসামান বলেন, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের মাধ্যমে এলাকায় ন্যায় ও শান্তি স্থাপন করতে হবে। জাতিসংঘ ২০১৬ সালে মোট ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১৬ নম্বর লক্ষ্যটি হল সমাজে ন্যায় ও শান্তি স্থাপন করা। গ্রাম আদালত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ আন্তরিকতার সাথে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের কাজে নিয়োজিত হলে সহজেই বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের ঘোষিত এই লক্ষ্যমাত্রাটি অর্জন করতে পারবে। এজন্য আমাদের সবাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। আজ এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকার ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। এখন দরকার এই প্রশিক্ষণ-লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গ্রাম আদালত সক্রিয় করার মাধ্যমে এলাকার জনসাধারণকে বিচারিক-সেবা প্রদান করা। এজন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সমাজে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।

মতলব-উত্তরের নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে এলাকার ছোট-খাট বিরোধ নিস্পত্তি করতে হবে। বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্য সদাশয় সরকার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে আইন করে গ্রাম আদালত চালু করেছে। ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদ হতে এই গ্রাম আদালত আইন পাশ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত সক্রিয় করার কোন বিকল্প নেই; কারণ উচ্চ আদালতে লক্ষ লক্ষ মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। এজন্য স্থানীয়ভাবে স্বল্প সময়ে ও সহজে নামমাত্র মূল্যে এলাকার মানুষের সবোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা মূল্যমানের মামলা নিস্পত্তি করার জন্য দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত চালু করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি’র (ইউএনডিপি) সহযোগীতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত ১৮-২১ নভেম্বর ২০১৯ গ্রাম আদালত বিষয়ক এই বিশেষ প্রশিক্ষণে মতলব-দক্ষিণ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৪৪ জন ইউপি সদস্য মোট দু’টি ব্যাচে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করবেন। আজকের এই ১ম ব্যাচের প্রশিক্ষণে খাদেরগাঁও ও নারায়নপুর ইউনিয়নের মোট ২২ জন ইউপি সদস্য অংশগ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই প্রশিক্ষণ চলছে।

প্রশিক্ষণে যে সকল বিষয় উপস্থাপন করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি (এডিআর), গ্রাম আদালত আইন ও বিধিমালা, গ্রাম আদালতের ধাপসমূহ, শুদ্ধাচার, মূল্যবোধ ও গ্রাম আদালত; জেন্ডার ও গ্রাম আদালত। প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের উপর একটি ভিডিও-শো প্রদর্শন সহ গ্রাম আদালতের মক-ট্রায়াল করা হচ্ছে যেখানে ইউপি সদস্যবৃন্দ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি