ঢাকা   ০৭:৫৯:৫৪ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

Reporter Name
  • Update Time : Friday, July 9, 2021,
  • 332 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

০৯ জুলাই ২০২১, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

অনলাইনে পণ্য কেনা-বেচার দেশীয় প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শুক্রবার (৯ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ইভ্যালি লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মিসেস শামীমা নাসরীন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল গোপনে দেশ ত্যাগের প্রচেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ দেশ ত্যাগ করলে সার্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যহত হতে পারে মর্মে গতকাল তাদের বিরুদ্ধ বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় সংস্থাটি।

গত ৮ জুলাই গ্রাহক ও মার্চেন্টের ৩৩৯ কোটি টাকার হদিস না থাকার বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির দুই কর্মকর্তাকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, গ্রাহক ও মার্চেন্টের টাকাগুলো আত্মসাৎ অথবা পাচার হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দুদকের একজন সহকারী পরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালককে ইভ্যালির দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইভ্যালির বিষয়ে ইতোপূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। সদস্যের টিমের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং অনুবিভাগ থেকে নতুন প্রাপ্ত অভিযোগটি পূর্বের অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নতুন অভিযোগটি আরও সুনির্দিষ্ট হওয়ায় এখন অনুসন্ধান কার্যক্রম গতিশীল হবে বলে দুদক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গত ৪ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ চার সরকারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে যে প্রতিবেদন তৈরি করে সেখানে দেখা যায়, ১৪ মার্চে ইভ্যালির মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা। মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা। যেখানে তার একই তারিখে গ্রাহকের কাছে ইভ্যালির দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের কাছে দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা।

অন্যদিকে ওই তারিখ পর্যন্ত ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়েছে ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল কেনার পর প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার সম্পদ থাকার কথা থাকলেও, বিভিন্ন হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ দেখাচ্ছে ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইভ্যালি তাদের বর্তমান যে সম্পদ আছে তাদে তারা মাত্র ১৬.১৪ শতাংশ গ্রাহকের হাতে পণ্য পৌছাতে পারবে। আর বাকি গ্রাহকদের কোনোভাবেই পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব না। এই অবন্থা বাংলাদশে ব্যাংক ধারণা করছে গ্রাহক ও মার্চেন্টের কাছ থেকে নেওয়া ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকা আত্মসাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি