ঢাকা   ০৯:০৭:৪১ পিএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকের এমএফএস অ্যাকাউন্টে প্রতারণা, সিআইডির জালে স্বামী-স্ত্রী

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Tuesday, February 24, 2026,
  • 412 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকদের সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নামে খোলা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও সিম কার্ড সংগ্রহ করে অভিনব কৌশলে প্রতারণা চালাত একটি চক্র। সেই চক্রের মূলহোতা স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে Criminal Investigation Department (সিআইডি)।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকার পবা থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সিআইডির চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইউনিট জানায়, গ্রেফতাররা হলেন মোছা. সুলতানা খাতুন (৪৫) ও তার স্বামী মো. মোবারক হোসেন (৫৫)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ছোট বোনগ্রাম এলাকায়।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন সেট ও ৪টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

প্রতারণার কৌশল

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ভিক্ষুকরা বাড়িতে এলে তাদের সরকারি রেশন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো। বিনিময়ে ভিক্ষুকদের নিজ নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) প্রতারকদের কাছে জমা রাখতে বলা হতো।
পরে ওই সিম ব্যবহার করে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের ফোন করা হতো। কখনো পুরুষ কণ্ঠে মোবারক হোসেন, কখনো নারী কণ্ঠে সুলতানা খাতুন কথা বলতেন। তারা জানাতেন—ভুক্তভোগীর মা, মেয়ে বা স্ত্রী দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, দ্রুত অর্থ না পাঠালে প্রাণহানি ঘটতে পারে।
আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই যাচাই-বাছাই না করেই অর্থ পাঠাতেন। অর্থ পাঠানোর জন্য দেওয়া হতো আগে থেকে সংগ্রহ করা ভিক্ষুকদের এমএফএস অ্যাকাউন্ট নম্বর। টাকা হাতে পেলেই ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলত চক্রটি, ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।

মামলার সূত্রপাত

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এক ভুক্তভোগীর মায়ের কাছে তার সুইডেন প্রবাসী মেয়ের পরিচয়ে ফোন করে জানানো হয়, তিনি দেশে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসার জন্য জরুরি অর্থ প্রয়োজন। প্রতারকরা একটি রকেট অ্যাকাউন্ট নম্বর দেয়। ভুক্তভোগীর মা বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান।
পরবর্তীতে প্রকৃত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল গোমস্তাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে তা নিয়মিত মামলায় রূপ নেয় (ধারা ৪০৬/৪২০ পেনাল কোড)।

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে শনাক্ত

সিআইডির এলআইসি শাখার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর শনাক্ত করা হয়। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিআইডির একটি আভিযানিক দল পবা থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দম্পতি অসংখ্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই কৌশলে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। অধিকতর তথ্য উদঘাটনে তাদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।সিআইডি জানায়, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি