• সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যা-পরবর্তী মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সফর সফল ও সার্থকভাবে সম্পন্ন হয়েছে পদ্মা ওআড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এমপি শহিদুল বল্লী ইউনিয়নে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের করে দোকান ভাঙ্গচুরের অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ১ উদয়নমোড়-রেলস্টেশন গেট সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিলেন চসিক মেয়র সিংড়ায় কৃষিজমি কেটে অবৈধ পুকুর খনন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমে বৈচিত্রতা নিয়ে ‘খবরের কণ্ঠস্বর’-এর যাত্রা শুরু আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬ শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞে ৫৮ নিহতের পরিচয় মিলেছে

স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংগঠনের দ্বৈত দায়িত্ব দলের সংকট

বিপ্লব সিকদার / ৪৬৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আজ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও পরিবর্তনের পর দলটি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে—কিন্তু ভেতরে ভেতরে পুরোনো এক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে: একই ব্যক্তি কি স্থানীয়  জনপ্রতিনিধি ও সাংগঠনিক নেতা—দুই ভূমিকায় কার্যকর থাকতে পারেন?বাস্তবতা বলছে, এই দ্বৈত দায়িত্বই এখন দলের ভেতরে বিভক্তি, দ্বন্দ্ব ও শৃঙ্খলাহীনতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের বিভিন্ন স্তরে সংঘাত, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, এমনকি তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ বাড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়। অন্যদিকে, সাংগঠনিক নেতার কাজ হলো দলকে সুসংগঠিত রাখা, আদর্শিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং কর্মীদের পরিচালনা করা। এই দুই দায়িত্বের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সময়, মনোযোগ ও অগ্রাধিকারের সংঘাত তৈরি হয়। ফলে দেখা যায়—জনপ্রতিনিধি হিসেবে কেউ প্রভাবশালী হলে তিনি সংগঠনকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। এখানেই জন্ম নেয় গোষ্ঠীবাদ।বিভিন্ন জেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ এই ক্ষমতার দ্বৈততা। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাচিত নেতা নিজস্ব অনুসারীদের দিয়ে কমিটি গঠন করেন, যার ফলে ত্যাগী ও পুরোনো নেতারা উপেক্ষিত হন। এতে সংগঠনের “চেইন অব কমান্ড” ভেঙে পড়ে এবং দলীয় শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে যায়।এই প্রেক্ষাপটে একটি সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ সময়ের দাবি—স্থানীয়ভাবে যিনি জনপ্রতিনিধি হবেন, তিনি সাংগঠনিক পদে থাকবেন না। এতে করে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে। জনপ্রতিনিধি তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, আর সাংগঠনিক নেতারা দলকে শক্তিশালী করতে মনোনিবেশ করবেন।বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দলেই এই বিভাজন একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করে। এতে একদিকে জবাবদিহিতা বাড়ে, অন্যদিকে দলীয় কাঠামো পেশাদার ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়। বিএনপির ক্ষেত্রেও এই মডেল বাস্তবায়ন করলে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অনেকটাই কমে আসতে পারে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর স্বাধীনতা। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মূল দলের প্রভাবশালী নেতারা অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রমেও হস্তক্ষেপ করেন। এতে তাদের নিজস্ব নেতৃত্ব বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। অথচ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের জন্য স্বতন্ত্র ও দক্ষ অঙ্গ সংগঠন অপরিহার্য।যদি ছাত্র, যুব, শ্রমিক বা স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো নিজস্ব চেইন অব কমান্ডে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে পারে, তাহলে তারা নিজেদের মধ্যে নেতৃত্ব তৈরি করতে পারবে এবং দলকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করবে। কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ কমলে সংঘাতও কমবে।বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও শৃঙ্খলা পুনর্গঠন। দলটি ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে যে তৃণমূলের বিভক্তি ও শৃঙ্খলাহীনতা তাদের সংগঠনকে দুর্বল করেছে।  তাই এখন প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, শুধুমাত্র ব্যক্তি নির্ভর সিদ্ধান্ত নয়।রাজনীতি যদি ক্ষমতার লড়াইয়ের বদলে নীতির চর্চা হয়, তাহলে এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণই সংঘাতের মূল উৎস। তাই এই চক্র ভাঙতে হলে সাংগঠনিক সংস্কার অপরিহার্য।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন