• বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

মেঘনার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন ভেঙে দুইটি করা এখনই জরুরি

বিপ্লব সিকদার / ২৫৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন এখন এমন এক প্রশাসনিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে এর বর্তমান কাঠামো দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ২১টি গ্রাম ও প্রায় ২২ হাজার ভোটারের এই বৃহৎ ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সুশাসনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। তাই ইউনিয়নটি ভেঙে দুটি পৃথক ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের দাবি এখন সময়োপযোগী এবং যৌক্তিক।স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই নাগরিক সেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু একটি ইউনিয়নের আয়তন ও জনসংখ্যা যখন অত্যধিক বড় হয়ে যায়, তখন সেই পরিষদের পক্ষে সব নাগরিককে সমানভাবে সেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বর্তমান চিত্র ঠিক তেমনই।২১টি গ্রামের বিস্তৃত এই ইউনিয়নে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ প্রায়ই অভিযোগ করেন, তারা প্রয়োজনীয় সেবা সময়মতো পান না। অনেক গ্রামে এখনও কাঁচা রাস্তা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘাটতি রয়েছে। অথচ ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বা তুলনামূলক সুবিধাজনক এলাকাগুলো কিছুটা উন্নয়নের ছোঁয়া পেলেও প্রান্তিক গ্রামগুলো রয়ে যাচ্ছে অবহেলিত।সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও একই সমস্যা বিদ্যমান। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ-ভিজিডি—এসব কর্মসূচির সুষ্ঠু বণ্টন বড় ইউনিয়নে জটিল হয়ে ওঠে। তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হয়, ফলে অভিযোগ, অনিয়ম এবং অসন্তোষ বাড়ে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও সৃষ্টি হয়।গোবিন্দপুর ইউনিয়নের মতো বৃহৎ একটি প্রশাসনিক ইউনিটে একজন চেয়ারম্যান ও কয়েকজন সদস্যের পক্ষে প্রতিটি গ্রামের সমস্যা জানা, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা এবং নিয়মিত তদারকি করা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে জনগণের সাথে জনপ্রতিনিধিদের দূরত্ব বাড়ছে, যা সুশাসনের জন্য বড় বাধা।
এ অবস্থায় ইউনিয়নটি ভেঙে দুটি পৃথক ইউনিয়ন গঠন করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম অনেক বেশি কার্যকর হবে। ছোট ইউনিটে বিভক্ত হলে প্রতিটি ইউনিয়ন তাদের নিজস্ব প্রয়োজন ও সমস্যার ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে। এতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সুষমভাবে বণ্টন হবে এবং পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলো অগ্রাধিকার পাবে।
এছাড়া জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ছোট ইউনিয়নে জনগণ সহজেই তাদের জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এতে দুর্নীতি কমে এবং সেবা প্রদানের মান বৃদ্ধি পায়।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইউনিয়ন বিভাজন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষি ও মৎস্যনির্ভর এই অঞ্চলে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও বাড়বে।বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে ইউনিয়ন বিভাজনের নজির রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নতুন ইউনিয়ন গঠনের ফলে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা বিদ্যমান।তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, জনমত যাচাই এবং একটি নিরপেক্ষ জরিপ। স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে, সুষম সীমানা নির্ধারণ করে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে দুটি ইউনিয়ন গঠন করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন