মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে জবাই করা ১৩টি ঘোড়া ফেলে পালিয়েছে একটি অবৈধ মাংস ব্যবসায়ী চক্র। বুধবার (৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে এই ঘোড়াগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা একটি জীবন্ত ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো থেকে অন্তত ৩০ মণ মাংস পাওয়া যেত।প্রত্যক্ষদর্শী তোফাজ্জল মিয়াজী জানান, ছয় মাস ধরে এলাকায় রহস্যজনক কর্মকাণ্ড চলছিল। সন্দেহজনক আচরণের কারণে গ্রামবাসী ওত পেতে ছিল। বুধবার ভোরে তারা চক্রটিকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করে, তবে তিতাস ও রাজিব নামে দুই সদস্যসহ চক্রের অন্যরা পালিয়ে যান।অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন জানান, প্রতি রবি ও বুধবার গভীর রাতে চক্রটি ঘোড়া জবাই করে মাংস বস্তায় ভরে হোটেলে সরবরাহ করত। প্রমাণ নষ্ট করতে তারা চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি মাটিতে পুঁতে ফেলত।এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই করার কোনো সুযোগ নেই। ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে। পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।