ঢাকা   ০৫:৪৯:৫৪ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আঙুলের ছাপে উধাও দেড় লাখ টাকার সঞ্চয়

ডেস্ক রিপোর্ট
  • Update Time : Monday, June 15, 2026,
  • 417 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখায় গ্রাহকের হিসাব থেকে রহস্যজনকভাবে দেড় লাখ টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, মাত্র ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলেও তার অজ্ঞাতসারে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অন্য একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মোসাঃ রিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং মেঘনা শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব পরিচালনা করে আসছেন। গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তিনি তার হিসাব থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় যান।
রিনা আক্তারের অভিযোগ, টাকা উত্তোলনের সময় কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী একাধিকবার তার আঙুলের ছাপ গ্রহণ করেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, এটি টাকা উত্তোলনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। পরে পুনরায় টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে তাকে জানানো হয়, তার হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ নেই।
এতে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই দিনের হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) সংগ্রহ করেন। স্টেটমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই দিনে তার হিসাব থেকে দুই দফায় অর্থ লেনদেন হয়েছে। প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং দ্বিতীয় দফায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অন্য একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, দ্বিতীয় লেনদেন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না এবং এ সংক্রান্ত কোনো ভাউচার, চেক বা অনুমতিপত্রে স্বাক্ষরও করেননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার অজ্ঞাতসারে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানান্তর হওয়া অর্থ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের একটি নির্দিষ্ট হিসাব নম্বরে জমা হয়েছে। তবে ওই হিসাবের প্রকৃত মালিক কে, তার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না কিংবা পুরো ঘটনাটি ব্যক্তিগত জালিয়াতি নাকি সংঘবদ্ধ চক্রের কর্মকাণ্ড—সেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সংশ্লিষ্ট শাখা নিয়ে অতীতেও গ্রাহক হয়রানি ও লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগের কথা শোনা গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। ফলে সংশ্লিষ্ট দিনের সিসিটিভি ফুটেজ, ট্রানজেকশন লগ, বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন রিপোর্ট এবং ক্যাশ উইথড্রয়াল ভাউচার পরীক্ষা করলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব।
প্রশ্ন উঠেছে, একজন গ্রাহকের হিসাবে একই দিনে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল কি না। যদি গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই লেনদেন সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে সেটি শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতারণার ঘটনা নয়; বরং এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
এদিকে অভিযোগকারী রিনা আক্তার দাবি করেছেন, এই ঘটনার কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি তার অর্থ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে মেঘনা থানা অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
ব্যাংকিং সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। কারণ একটি অভিযোগের পেছনে যদি সত্যতা থাকে, তবে তা শুধু একজন গ্রাহকের ক্ষতি নয়, পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের বিশ্বাসকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি