মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মূল্যবান সরকারি জমি দখল করে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি দোকান নির্মাণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাবেক সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারী আলী আহম্মেদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়ক সংলগ্ন সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং গত প্রায় দুই দশকে কয়েক কোটি টাকারও বেশি অর্থ ভাড়া হিসেবে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক মার্কেট
সরেজমিনে ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান। মুদি দোকান, মাছের আড়ত, সবজি বাজার, কাপড়ের দোকান, হার্ডওয়্যার, মোবাইল সার্ভিসিং, চায়ের স্টলসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেখানে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য কোনো বৈধ বন্দোবস্ত, ইজারা কিংবা সরকারি অনুমোদনের নথি নেই। তারপরও বছরের পর বছর ধরে সরকারি জমি ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে সাবেক সরকারি কর্মচারী
অভিযুক্ত আলী আহম্মেদ টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি-ভাটেরচর গ্রামের মৃত মনির হোসেনের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সওজ বিভাগের সাবেক কর্মচারী হিসেবে তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ না করলে দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বছরে ৩০ লাখ, দুই দশকে কোটি টাকার হিসাব
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গড়ে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ভাড়া আদায় হলে বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২০ বছরে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
তবে এ অর্থের কোনো অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, কিংবা ভাড়ার অর্থ আদায়ের কোনো বৈধতা আছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও ভাড়া আদায়ের ঘটনা চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কিংবা সড়ক ও জনপথ বিভাগের দৃশ্যমান কোনো অভিযান দেখা যায়নি।
তাদের মতে, মহাসড়কের পাশে সরকারি জমি দখল করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ শুধু সরকারের সম্পদের ক্ষতিই করছে না, ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
সচেতন মহলের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সরকারি জমির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে কেউ যদি দীর্ঘদিন আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
যা বললেন অভিযুক্ত
অভিযোগের বিষয়ে আলী আহম্মেদ বলেন, “খুব শিগগিরই সরকারি জায়গা থেকে দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হবে।” তবে দীর্ঘদিন ধরে জমি ব্যবহার ও ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
সওজের বক্তব্য মেলেনি
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তদন্তের অপেক্ষায় স্থানীয়রা
সরকারি জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ভাটেরচর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।