ঢাকা   ০৪:০৩:০৫ পিএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: নারী-শিশুসহ ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

Reporter Name
  • Update Time : Monday, July 6, 2026,
  • 131 Time View
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

আবু মুসা:

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত উপজেলার পালংখালী, রাজাপালং ও বালুখালী এলাকার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। সেখানে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি, তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তিনজনকে মৃত এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে আসা মাটিচাপায় সাত বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু একরামের মৃত্যু হয়। নিহত একরাম ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

সর্বশেষ রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরও একটি ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত এবং একজন আহত হন।

নিহতরা হলেন— উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তাঁর ছোট ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি