ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ের চেষ্টার অভিযোগে জুবায়ের রহমান জয় নামে এক যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, উপজেলার মাঝখুরিয়া গ্রামের জুবায়ের রহমান জয় কোষামণ্ডলপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে সোমবার সকালে ওই ছাত্রীর বাড়িতে অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, মেয়েটির বয়স আইনানুগ বিয়ের উপযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও বিকেলে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দেওয়া হয় এবং রাতে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন। এ সময় জুবায়ের রহমান জয় এবং রুহুল আমিন নামে আরও এক যুবককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী নাবালিকাকে বিয়ের চেষ্টার অপরাধে জুবায়ের রহমান জয়কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অপরদিকে, রুহুল আমিনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে জুবায়েরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী নাবালিকাকে বিয়ের চেষ্টার অপরাধে একজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।