• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মাথা উঁচু রাখলেন মেসিরা বিশ্বমঞ্চে বারুইপুর কাণ্ডে মোমবাতি হাতে শত শত মানুষের প্রতিবাদ, রাজনীতি নয়—দোষীর ফাঁসি চাই প্রেসক্লাব যশোরের নির্বাচন দাবি পীরগঞ্জে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে বিয়ের চেষ্টায় যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড ম্যানেজারের চেয়ারে বসে কোটি টাকার দাবি, যুবকের কাণ্ডে আতঙ্ক ব্যাংকে সিংড়ায় ওপেন হাউজ ডে: পুলিশ-জনতার সম্পৃক্ততায় গুরুত্বারোপ সদরপুর সরকারি কলেজে ভূগোল বিভাগের নতুন প্রধানকে বরণ, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শাহীন উদ্দিনকে বিদায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পলিটিক্যাল সেক্রেটারির সঙ্গে ছাত্র অধিকার পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার -১ স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে জোর আলোচনা

মাথা উঁচু রাখলেন মেসিরা বিশ্বমঞ্চে

স্পোর্টস ডেস্ক / ৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ফুটবল যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়—শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনো গল্পের শেষ লেখা যায় না। মাঠে কখনো হতাশা, কখনো উল্লাস, কখনো বা চোখের জল—সব মিলিয়ে ফুটবল হয়ে ওঠে আবেগের এক বিশাল ক্যানভাস। সেই ক্যানভাসেই নতুন করে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লিখল আর্জেন্টিনা। মিসরের বিপক্ষে দুই গোল পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩–২ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেও সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে দুটি দৃশ্য। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির চোখে আনন্দাশ্রু, আর কয়েক মুহূর্ত পর সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগ সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলা কোচ লিওনেল স্কালোনি। জয় ছিল আর্জেন্টিনার, কিন্তু সেই জয়ের মূল্য ছিল কঠিন লড়াই, অসীম মানসিক শক্তি এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখার গল্প।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মোটেও আর্জেন্টিনার পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। মিসর দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে এবং একপর্যায়ে ২–০ গোলে এগিয়ে যায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্ষণে দেখা দেয় অস্থিরতা, মাঝমাঠেও ছিল ছন্দহীনতা। গ্যালারিতে তখন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। অনেকেই হয়তো ভাবতে শুরু করেছিলেন, বিশ্বকাপে এবারই বুঝি শেষ হয়ে যাচ্ছে মেসিদের যাত্রা।
কিন্তু এই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কখনো হাল না ছাড়া। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আরও সংগঠিত হয়ে ওঠার যে মানসিকতা স্কালোনি গত কয়েক বছরে গড়ে তুলেছেন, তারই প্রতিফলন দেখা যায় ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে।
প্রথমে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর গোল আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরার সাহস জোগায়। সেই গোলের পর বদলে যায় ম্যাচের গতি। খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় ফিরে আসে আত্মবিশ্বাস। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে থাকে, আক্রমণেও আসে ধার।
এরপর মঞ্চে আবির্ভাব লিওনেল মেসির। চাপের মুহূর্তে যিনি বারবার আর্জেন্টিনার ভরসা হয়ে উঠেছেন, তিনিই আবারও গোল করে সমতায় ফেরান দলকে। গোলের পর তাঁর উদ্‌যাপনেও ছিল স্বস্তি, ছিল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা। বয়স বাড়লেও বড় ম্যাচে মেসির প্রভাব যে এখনো অমলিন, সেটি আরও একবার প্রমাণিত হলো।
ম্যাচের শেষদিকে এনসো ফের্নান্দেসের গোল যেন পূর্ণতা দেয় আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের গল্পকে। ২–০ থেকে ৩–২—মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দেখিয়ে দেয় কেন তারা এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
শেষ বাঁশির পর ফুটবলের আবেগী রূপটি সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে কোচ স্কালোনির মধ্যে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী মাঠেই সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে আসেন তিনি। কিন্তু মাইক্রোফোন সামনে ধরতেই নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘আমি মাথাও তুলতে পারছি না। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি খুব আবেগাপ্লুত। কী একদল খেলোয়াড়! আমাকে যেতে হবে।’
এরপর আর কিছু না বলেই সেখান থেকে চলে যান আর্জেন্টিনার এই সফল কোচ। তাঁর সংক্ষিপ্ত কথাতেই যেন ধরা পড়ে দীর্ঘ কয়েক বছরের পরিশ্রম, চাপ, প্রত্যাশা এবং এই দলের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা।
স্কালোনির হয়ে পরে কথা বলেন সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা। তিনিও আবেগঘন কণ্ঠে খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষায়, এই দল কখনো হাল ছাড়ে না। তারা সব সময় আরও ভালো করার চেষ্টা করে এবং অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেখানোর সাহস রাখে।
আসলে এই আর্জেন্টিনা দলটিকে আলাদা করে তুলেছে তাদের মানসিক দৃঢ়তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক বড় আসরে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির গড়েছে তারা। শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, দলীয় সংহতি এবং একে অপরের প্রতি আস্থা এই দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ।মেসির চোখের জলও ছিল অন্যরকম। ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে প্রতিটি ম্যাচই তাঁর কাছে বিশেষ। বিশ্বকাপের মঞ্চে আর কত দিন তাঁকে দেখা যাবে, সে প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের হাতে। তাই প্রতিটি জয়, প্রতিটি গোল এবং প্রতিটি মুহূর্ত যেন আরও বেশি আবেগ নিয়ে স্পর্শ করে তাঁকে।ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে একটি কথাই ঘুরছিল—‘যদি বিদায় নিতেই হয়, তবে মাথা উঁচু করেই নেব।’ কিন্তু সেই বিদায়ের গল্প আপাতত স্থগিত। বরং মাথা উঁচু করেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে আলবিসেলেস্তেরা। লড়াই করে, ঘুরে দাঁড়িয়ে এবং নিজেদের বিশ্বাস অটুট রেখে।এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়। এটি আত্মবিশ্বাসের গল্প, নেতৃত্বের গল্প এবং সংকট জয় করার গল্প। যে দল দুই গোল পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে পারে, তাদের বিপক্ষে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো প্রতিপক্ষই নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না।এখন সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ হবে আরও শক্তিশালী। তবে মিসরের বিপক্ষে এই নাটকীয় জয় আর্জেন্টিনাকে শুধু পরের ধাপে তুলেই দেয়নি, মানসিকভাবেও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলেছে।বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা হয়েছে। আর্জেন্টিনার এই জয়ও হয়তো সেই তালিকায় জায়গা করে নেবে। কারণ এখানে ছিল ভয়, হতাশা, সংগ্রাম, প্রত্যাবর্তন, অশ্রু আর শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি—যা ফুটবলকে শুধু একটি খেলা নয়, কোটি মানুষের অনুভূতির আরেক নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন